কওমি মাদ্রাসা নিয়ে জামায়াত আমীরের বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যের একটি অংশ প্রচার করা হয়। প্রচারিত অংশে তাকে বলতে শোনা যায়, “জামায়াত ক্ষমতায় আসলে কওমি মাদ্রাসা থেকে যারা পাশ করে বের হয়েছেন, তাদেরকে মসজিদ এবং মেহরাব থেকে বিদায় করে দেওয়া হবে, এরা মিথ্যাবাদী।” ভিডিওটি একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচার করা হয়।

ফেসবুকে প্রচারিত এ সংক্রান্ত দাবির পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক 

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, জামায়াত আমীরের বক্তব্যের একটি খণ্ডিত অংশ আলাদা করে প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। মূল বক্তব্যে তিনি বলেছেন, “ভয় দেখানো হয়, জামায়াত ক্ষমতায় আসলে কওমি মাদ্রাসা থেকে যারা পাশ করে বের হয়েছেন, তাদেরকে মসজিদ এবং মেহরাব থেকে বিদায় করে দেওয়া হবে, এরা মিথ্যাবাদী। আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে, আপনাদেরকে সাক্ষী রেখে বলছি, কওমি মাদ্রাসা আমাদের কলিজা, কওমি মাদ্রাসা আমাদের হৃদয়। ইসলামি শিক্ষাটা তারাই এখন ধরে রেখেছেন।”

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে বেসরকারি টেলিভিশন ডিবিসি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত জামায়াত আমীরের দেওয়া মূল বক্তব্যের ভিডিওটি পাওয়া যায়। ভিডিওর এক মিনিট পর থেকে তাকে বলতে শোনা যায়, “ভয় দেখানো হয়, জামায়াত ক্ষমতায় আসলে কওমি মাদ্রাসা থেকে যারা পাশ করে বের হয়েছেন, তাদেরকে মসজিদ এবং মেহরাব থেকে বিদায় করে দেওয়া হবে, এরা মিথ্যাবাদী। আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে, আপনাদেরকে সাক্ষী রেখে বলছি, কওমি মাদ্রাসা আমাদের কলিজা, কওমি মাদ্রাসা আমাদের হৃদয়। ইসলামি শিক্ষাটা তারাই এখন ধরে রেখেছেন।”

তবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে বক্তব্যের শুরুতে থাকা “ভয় দেখানো হয়” অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এই অংশটি বাদ পড়ার ফলে বক্তব্যটি এমনভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, যা মূল বক্তব্যের অর্থকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করে দেয়।

এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে সময় টেলিভিশনের ওয়েবসাইটে ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, ওইদিন সকালে ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় কওমি মাদ্রাসা নিয়ে ছড়ানো গুজবের জবাব দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আলেম ওলামার ব্যাপারে একটা কথা ছড়ানো হচ্ছে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কওমি মাদ্রাসা থেকে যারা ফারিগ হয়েছেন, শিক্ষা নিয়েছেন সেই মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং মসজিদ থেকে তাদেরকে বিদায় করে দেওয়া হবে। এটা জগতের একটা জঘন্য মিথ্যাচার।

সুতরাং, জামায়াত ক্ষমতায় এলে কওমি মাদ্রাসা থেকে যারা পাশ করেছেন তাদের মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া হবে, এমন দাবিতে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যটি খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে প্রচার করা হয়েছে; যা সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: