পঞ্চগড়ে জামায়াতের নির্বাচনী সমাবেশের ছবি দাবিতে ২০২৫ সালের মহাসমাবেশের সম্পাদিত ছবি প্রচার 

গত ২৩ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে পঞ্চগড়ে ১০ দলীয় ঐক্যের জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে, “এবার খুঁশি? জামাতের বিরুদ্ধে অপ্র- প্রচার থামাও। এটা আজকের পঞ্চগড়ে জামাতের সমাবেশের ছবি উত্তর বঙ্গের ৯৯% মানুষ এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিবে।” শীর্ষক দাবিতে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবিটি পঞ্চগড়ে জামায়াতের নির্বাচনী সমাবেশের নয়। প্রকৃতপক্ষে, গত বছরের জুনে ঢাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসমাবেশের পুরোনো ছবিকে সম্পাদনা করে আলোচিত দাবির ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার সংবাদমাধ্যম ‘ইত্তেফাক’ এর ওয়েবসাইটে “ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশে জামায়াত-এন‌সি‌পি-হিন্দু মহাজোটের নেতারা” শীর্ষক শিরোনামে গত বছরের ২৮ জুন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে একটি ছবির সংযুক্তি পাওয়া যায়৷ যার সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিটির মিল পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, গত বছরের ২৮ জুন ( রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংস্কার, বিচার, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন, লেভেল প্লে‌য়িং ফিল্ডের দাবিতে ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এন‌সি‌পি), গণঅধিকার প‌রিষদ, এবি পা‌র্টিসহ বি‌ভিন্ন দ‌লের নেতারা যোগ দেয়। চরমোনাই পীরসাহেবের এই সমাবেশে যোগ দিয়েছিল হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সংগঠ‌নের নেতারাও।

এছাড়াও, অনুসন্ধানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সার‌জিস আলমের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে “ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের লক্ষ জনতার জাতীয় মহাসমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র একাত্মতা প্রকাশ। নির্বাচনের পূর্বে বিচার ও মৌলিক সংস্কারের প্রশ্নে কোন আপোস নয়” শীর্ষক ক্যাপশনে গতবছরের ২৮ জুন প্রচারিত একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টটিতে ৬টি ছবিরও সংযুক্তি পাওয়া যায় যার মধ্যে একটি ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিটির সাদৃশ্য পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, সাদৃশ্য পাওয়া উক্ত ছবিটি ইত্তেফাকের উপরোল্লিখিত প্রতিবেদনেও পাওয়া যায়। তবে ছবিগুলোর উপাদান থেকে প্রতীয়মান হয় যে ছবিগুলো একে অপরের প্রতিবিম্ব সংস্করণের সম্পাদিত সংস্করণ।

তবে, ইত্তেফাকের প্রতিবেদন ও সারজিস আলমের পোস্টে সংযুক্ত উক্ত ছবিটির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিটির বাম অংশের বৈসাদৃশ্য পাওয়া যায়। ইত্তেফাকের প্রতিবেদন ও সারজিস আলমের পোস্টে সংযুক্ত ছবিটির বাম অংশে গাছগাছালি থাকলেও আলোচিত দাবিতে প্রচারিত মিররড ছবিটির ডানপাশেও জনসমুদ্র দেখা যায়। উল্লেখ্য, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির উপাদান থেকে প্রতীয়মান হয় যে ছবিটি মূল ছবির মিররড/প্রতিবিম্ব সংস্করণের সম্পাদিত সংস্করণ।

এছাড়াও, অনুসন্ধানে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিটির হুবহু অনুরূপ কোনো ছবি নির্ভরযোগ্য সূত্রেও পাওয়া যায়নি যা থেকেও বুঝা যায় যে, প্রচারিত ছবিটি ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনা করে তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি, অনুসন্ধানে সম্পাদিত ছবিটিও অন্তত গতবছরের ০২ জুলাই থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হতে দেখা যায়।

অর্থাৎ, প্রচারিত ছবিটি পঞ্চগড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমাবেশের নয়।

সুতরাং, গতবছর জুনে ঢাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসমাবেশের সম্পাদিত ছবিকে সাম্প্রতিক সময়ে পঞ্চগড়ে জামায়াতের নির্বাচনী সমাবেশের ছবি দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: