জামায়াত প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদের প্রার্থিতা পুনর্বহালের ভুয়া দাবি প্রচার

গত ০২ জানুয়ারি কক্সবাজার-২ মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনার পর গত ০৪ জানুয়ারি থেকে ‘কক্সবাজার–০২ আসনে ডা. এ. এইচ. এম. হামিদুর রহমান আজাদ-এর প্রার্থিতা পুনর্বহাল হয়েছে’ শীর্ষক একটি দাবি ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)৷

উক্ত দাবিতে থ্রেডসে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

একই দাবির ইনস্টাগ্রাম পোস্ট দেখুন এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের প্রার্থিতা পুনর্বহাল করা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, কোনোপ্রকার নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই উক্ত তথ্যটি প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট যাচাই করে দেখে রিউমর স্ক্যানার। উক্ত ওয়েবসাইটে ওয়েবসাইটে কক্সবাজার-২ আসনে মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হওয়া ৫ জন প্রার্থীর তালিকায় এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের নাম পাওয়া যায়নি।

গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের প্রার্থিতা পুনর্বহাল হওয়া সংক্রান্ত কোনো সংবাদ বা তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত ০২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে বলে জানান জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান। হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা রয়েছে। এ মামলার তথ্য গোপন করায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একটি সূত্র। তবে প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে তিনি আপিল করতে পারবেন।

এ বিষয়ে ঢাকা পোস্টের ওয়েবসাইটে গত ০৪ জানুয়ারি ‘প্রার্থিতা ফিরে পেতে পারেন ড. হামিদুর রহমান আযাদ’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, গত ০২ জানুয়ারি রাতে কক্সবাজার জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলের সাজানো ও মিথ্যা মামলার অজুহাতে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায় সিদ্ধান্ত। আমার হলফনামায় ঋণখেলাপি, ট্যাক্স ফাঁকি কিংবা রাষ্ট্রীয় কোনো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নেই। তারপরও ২০১৩ সালের আদালত অবমাননার একটি মামলাকে সামনে এনে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বৈষম্যমূলক।

গত ০৩ জানুয়ারি রাতে হামিদুর রহমান আযাদের আইনজীবী মোহাম্মদ আরিফ জানান, উল্লিখিত মামলায় তিনি তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করেছেন এবং বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতে আপিলাধীন রয়েছে। এটি আদালত অবমাননার মামলা, কোনো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধ নয়। আমাদের বক্তব্য না শুনেই একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে, যার বিরুদ্ধে আমরা আপিলে যাচ্ছি।

গত ০৫ জানুয়ারি থেকে আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন গ্রহণ ও বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুরু হয়েছে। এই আপিল কার্যক্রম চলবে আগামী ০৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাখিল করা আপিল নির্বাচন কমিশন আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করবে।

অর্থাৎ, এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের প্রার্থিতা পুনর্বহাল সিদ্ধান্তের বিষয়টি এখনও চলমান আপিল প্রক্রিয়ার আওতাধীন।

সুতরাং, এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের প্রার্থিতা পুনর্বহাল করা হয়েছে দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা৷

তথ্যসূত্র

Share: