গাঁজাসহ ২ জামায়াত নেতা গ্রেফতারের দাবিতে আমার দেশের নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার 

গত ০২ ফেব্রুয়ারি ‘বগুড়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২২ কেজি গাঁজাসহ ২ জামায়াত নেতাকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব’ শিরোনামে আমার দেশের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্টটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘বগুড়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২২ কেজি গাঁজাসহ ২ জামায়াত নেতাকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব’ শিরোনামে আমার দেশ কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় আমার দেশের ফটোকার্ড ডিজাইন নকল করে আলোচিত দাবি সংবলিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে আমার দেশের লোগো এবং এটি প্রকাশের তারিখ ২ ফ্রেব্রুয়ারি, ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে।

উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে আমার দেশের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, আমার দেশের ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে আমার দেশের প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির ফন্টের পার্থক্যও পরিলক্ষিত হয়।

অর্থাৎ, আমার দেশের ফটোকার্ড ডিজাইন নকল করে এই ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

তবে, অনুসন্ধানে ১৭ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে স্থানীয় ও জাতীয় একাধিক (,,,) গণমাধ্যমের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একই ছবিসহ একটি সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়। ওইসব প্রতিবেদনে বলা হয়, বগুড়ায় ২২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল,২০২৪) সকালে শহরের মাটিডালী এলাকা থেকে একটি ট্রাক থেকে এ গাঁজা উদ্ধার করা হয়৷ গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা পূর্ব সিন্দুনা এলাকার নজরুল ইসলাম খান এবং নীলফামারীর ডিমলার ছোট খাতা এলাকার রুবেল মিয়া।

তবে, উল্লেখিত প্রতিবেদনগুলোর কোথাও গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

সুতারাং, ‘বগুড়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২২ কেজি গাঁজাসহ ২ জামায়াত নেতাকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব’ শিরোনামে আমার দেশের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

Share: