আকাশে ইরানের মিসাইল দেখানোর অজুহাতে ছাত্রকে জামায়াত নেতার বলাৎকারের দাবিতে ভিন্ন ঘটনার পুরোনো ছবি প্রচার

চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশের হাতে এক ব্যক্তির আটক অবস্থার একটি ছবি সংযুক্ত করে তৈরি এক ফটোকার্ড প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ‘আকাশে ইরানের মিসাইল দেখানোর কথা বলে ছাত্রকে ছাদে ব লাৎকা’র করেন জামাত নেতা’।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবিটি আকাশে ইরানের মিসাইল দেখানোর কথা বলে কোনো ছাত্রকে ছাদে নিয়ে গিয়ে জামায়াত নেতার বলাৎকারের ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি ২০২৩ সালের জুনে একটি মহিলা মাদ্রাসার হোস্টেলে ঢুকে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে অধ্যক্ষ গ্রেফতারের ঘটনার ছবি। সেই ঘটনার ছবিটিই আলোচিত দাবিতে ব্যবহার করে প্রচার করা হয়েছে। এছাড়া, দাবিটির সূত্রপাত একটি সার্কাজম পেজ থেকে হলেও পরবর্তীতে তা বাস্তব দাবি হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্ট পর্যবেক্ষণ করে দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলেও আলোচিত দাবির সপক্ষে নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উক্ত ফটোকার্ডের সূত্রপাতের বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল আই’ এর লোগোর আদলে তৈরি ‘চ্যানেল এআই’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ৬ মার্চে আলোচিত মূল ফটোকার্ডটি পোস্ট হতে দেখা যায়।

‘চ্যানেল এআই’ পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে পেজের বায়োর ক্যাটাগরিতে ‘স্যাটায়ার/প্যারোডি’ উল্লেখ পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্টে সংযুক্ত ছবির বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার সংবাদমাধ্যম সমকাল এর ওয়েবসাইটে ২০২৩ সালের ২০ জুনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে আলোচিত ছবির সংযুক্তি পাওয়া যায়। তবে প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবি ও আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্টে সংযুক্ত ছবি একে অপরের প্রতিবিম্ব বা মিরর সংস্করণ।

ছবিটির বর্ণনায় বলা হয়, আটক হওয়া ব্যক্তির নাম শরীফুল ইসলাম। আটক হওয়ার বিষয়ে সমকালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার একটি মহিলা মাদ্রাসার হোস্টেলে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ শরীফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০২৩ সালের ২০ জুন) ময়নামতি ইউনিয়ন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
এছাড়াও, সংবাদমাধ্যম ‘বাংলা ট্রিবিউন’ এর ওয়েবসাইটেও সেসময়ে একইরকম তথ্যসমেত প্রকাশিত এক প্রতিবেদনেও আলোচিত ছবির সংযুক্তি পাওয়া যায়। তবে এর মধ্যে কোনো প্রতিবেদনেই অভিযুক্ত শরীফুল ইসলামের রাজনৈতিক পরিচয়ের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, ২০২৩ সালের জুনে মহিলা মাদ্রাসার হোস্টেলে ঢুকে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে অধ্যক্ষ গ্রেফতারের ঘটনার ছবিকে সম্প্রতি আকাশে ইরানের মিসাইল দেখানোর কথা বলে ছাত্রকে ছাদে নিয়ে জামায়াত নেতার বলাৎকারের ঘটনার দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Channel Ai – Facebook Post
- Samakal – মহিলা মাদ্রাসার হোস্টেলে ঢুকে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার অধ্যক্ষ
- Bangla Tribune – শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে অধ্যক্ষ গ্রেফতার
- Rumor Scanner’s analysis

