৫৩ নয়, ১০ হাজারের কম ভোটে হেরেছে ১১ দলীয় জোটের এমন আসন সংখ্যা ২৩টি

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট। এদিন নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ হয় এবং ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে ইসি। এতে বিএনপি ও তাদের মিত্র দল ২১২টি আসনে জয়ী হয় এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্র দল ৭৭টি আসনে জয়ী হয়। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ফল গণনায় কারচুপিসহ নির্বাচনে অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছে।

এরই প্রেক্ষিতে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় দৈনিক আমার দেশের ওয়েবসাইটে ‘৫৩ আসনে ১০ হাজারের কম ব্যবধানে হেরেছেন জামায়াত জোটের প্রার্থীরা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়- জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ড. যোবায়ের আহমদ আমার দেশকে জানিয়েছেন, ‘৫৩ আসনে ১০ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন জামায়াত জোটের প্রার্থীরা।’
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, জামায়াত ১০ হাজারের কম ভোটে হেরেছে এমন আসনের সংখ্যা ৫৩টি নয়। প্রকৃতপক্ষে ১০,০০০-এর কম ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে ৫০টি আসনে; এর মধ্যে ১১ দলীয় জোট জিতেছে ২১টি আসনে এবং বিএনপি ও তাদের মিত্ররা জিতেছে ২৫টি আসনে। ১০ হাজারের কম ব্যবধানে ১১ দলীয় জোট ২৩ টি আসনে হেরেছে এবং বিএনপি জোট হেরেছে ২৪টি আসনে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে রিউমর স্ক্যানার টিম জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও সরকারি সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্বাচনের ফল প্রকাশ করা ২৯৭টি আসনের প্রতিটি আসনে জয়ী হওয়া ব্যক্তি ও দল এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর পাওয়া ভোটের সংখ্যা নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করে। এ তালিকা তৈরিতে গণমাধ্যম দুইটির পাশাপাশি রিটার্নিং অফিসারদের স্বাক্ষরিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলের বার্তা প্রেরণ শিটেরও সহায়তা নেওয়া হয়েছে।
তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১০০০০-এর কম ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে ৫০টি আসনে; এর মধ্যে ১১ দলীয় জোট জিতেছে ২১টি আসনে, বিএনপি ও তাদের মিত্ররা জিতেছে ২৫টি আসনে, স্বতন্ত্র হিসেবে জিতেছেন ৩ জন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জিতেছেন ১ জন প্রার্থী।
সবচেয়ে কম ব্যবধান, ৩৮৫ ভোটের ব্যবধান, দেখা গেছে মাদারীপুর-১ আসনে। এ আসনে জয়ী হয়েছে ১১ দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি।

এছাড়াও, ১০ হাজারের কম ব্যবধানে ১১ দলীয় জোট ২৩ টি আসনে হেরেছে, পক্ষান্তরে ১০ হাজারের কম ব্যবধানে বিএনপি জোট হেরেছে ২৪টি আসনে। ১০ হাজারের কম ব্যবধানে স্বতন্ত্র বা অন্যান্য প্রার্থী ৩ টি আসনে হেরেছেন। ১০ হাজারের কম ব্যবধানে হেরে যাওয়া স্বতন্ত্র/অন্যান্য ৩ টি আসন ও ভোট ব্যবধান: ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫ – ১০৬১, গোপালগঞ্জ ২ – ৭০০৯, ময়মনসিংহ ১০ – ৮২১৪।

অর্থাৎ, ১০ হাজারের কম ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হওয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বিএনপি বেশি আসন জিতলেও একইসাথে বিএনপি বেশি আসন হেরেছেও।
উল্লেখ্য, কয়েকটি আসনে প্রথম আলো ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় উল্লিখিত ভোট সংখ্যায় অমিল পাওয়া গেলে সে আসনগুলোর ফলাফল রিটার্নিং অফিসারদের স্বাক্ষরিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলের বার্তা প্রেরণ শিটের তথ্যানুযায়ী হিসাব করা হয়।
প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদের জন্য জনগণের ভোটে ৩০০ আসনের জন্য সংসদ সদস্য নির্বাচন করা হলেও বিজয়ী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও সিটির দুই ওয়ার্ড) আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবং জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এতে করে ২৯৭টি আসনের ফলাফল পাওয়া যায়।
সুতরাং, জামায়াত ১০ হাজারের কম ভোটে হেরেছে এমন আসনের সংখ্যা ৫৩টি শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Prothom Alo – আসন ভিত্তিক ফলাফল
- Bangladesh Sangbad Sangstha – আসন ভিত্তিক ফলাফল
- Preliminary unofficial result sheets signed by the returning officers

