চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুলসংখ্যক অস্ত্রসহ জামায়াত কর্মী আটক হওয়ার দাবিটি ভুয়া

সম্প্রতি, ‘চট্টগ্রামের লোহাগাড়া চরম্বায় জামায়াতের এক কর্মীকে বিপুল পরিমান অস্ত্রসহ আটক করেছে সেনাবাহিনী’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। 

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় জামায়াতের এক কর্মীকে বিপুল পরিমান অস্ত্রসহ সেনাবাহিনীর আটকের দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, আটককৃত ব্যক্তি চট্টগ্রামের কুখ্যাত সন্ত্রাসী এবং প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদনার মাধ্যমে আমার দেশের ফটোকার্ডের আদলে তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে জনতার দেশ শীর্ষক একটি লোগো রয়েছে। তবে, অনুসন্ধানে জনতার দেশ নামক কোনো গণমাধ্যমের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এছাড়া, এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে।

পরবর্তীতে ফটোকার্ডটিতে ব্যবহৃত ছবি অনুসন্ধান করে প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গত ১৬ জানুয়ারি ‘শোবার ঘরের খাটের নিচে ছিল থানা থেকে লুট হওয়া গুলি, যুবক আটক’’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় থানা থেকে লুট হওয়া গুলিসহ মো. রিফাত (৩২) নামক এক যুবককে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। পুলিশের বরাতে বলা হয়, রিফাতের নামে লোহাগাড়া থানায় বিভিন্ন অপরাধে ১৪টি মামলা রয়েছে। আটকের পর তার বাড়িতে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। পরে তার শোবার ঘর ও ঘরের সামনের ইটের স্তূপ থেকে ২টি দেশি বন্দুক, ৭টি গুলি, ৯টি ছুরিসহ বিভিন্ন দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থানা থেকে লুট হওয়া ৬টি গুলি ছিল। এসব শোবার ঘরে লুকানো ছিল। পাশাপাশি ঘর থেকে ১টি ড্রোন, ৮টি মুঠোফোন ও ২ লিটার মদ জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে, নিউজ বাংলা২৪ ডট কমের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডস্থ তেলিবিলায় লোহাগাড়া আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন ওলিদ বিন মৌদের (২৬ ইবি) নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও লোহাগাড়া থানা পুলিশ কর্তৃক অবৈধ অস্ত্রধারী কুখ্যাত সন্ত্রাসী রিফাতকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়। সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। সে চরম্বা সহ লোহাগাড়ার বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মূল হোতা ছিল।

উক্ত ব্যক্তির জামায়াতের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়নি।

সুতরাং, চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ জামায়াতের কর্মী আটকের দাবিটি ভুয়া।

তথ্যসূত্র

Share: