বাড়িতে গিয়ে ভোটার আইডি সংগ্রহের অভিযোগ জামায়াত কর্মী গ্রেফতার দাবিতে আমার দেশের ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার 

সম্প্রতি, ‘বাড়ি বাড়ি গিয়ে সহজ সরল মহিলাদের ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার সংবলিত করতে গেলে, জামায়াতের নারী কর্মীদেরকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয় এলাকাবাসী।’ শিরোনামে আমার দেশ এর ডিজাইন সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘বাড়ি বাড়ি গিয়ে সহজ সরল মহিলাদের ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার সংগ্রহ করতে গেলে, জামায়াতের নারী কর্মীদেরকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয় এলাকাবাসী।’ শিরোনামে আমার দেশ কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় আমার দেশের ফটোকার্ড ডিজাইন নকল করে আলোচিত দাবি সংবলিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে জাতীয় দৈনিক আমার দেশের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে।

উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে আমার দেশের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, আমার দেশের ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে আমার দেশের প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির ফন্টের পার্থক্যও পরিলক্ষিত হয়।

অর্থাৎ, আমার দেশ এর ফটোকার্ড ডিজাইন নকল করে এই ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

ছবি যাচাই

আলোচিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির বিষয়ে অনুসন্ধানে ডেইলি স্টার এর ওয়েবসাইটে ২০২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর ‘জামায়াতের ৮ নারী কর্মী গ্রেপ্তার’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে যুক্ত ছবির সাথে আলোচিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির মিল রয়েছে।

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, মেহেরপুরের মুজিবনগরে সরকারবিরোধী গোপন বৈঠক করার অভিযোগে বিপুল পরিমানে সাংগঠনিক বইসহ জামায়াতের আট নারী কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুজিবনগর থানা পুলিশ উপজেলার গোপালনগর গ্রামের মোশারফ মাস্টারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। মুজিবনগর থানার ওসি মেহেদী রাসেল বরাতে বলা হয়, নাশকতা ও সরকারবিরোধী কার্যকলাপ পরিচালনার উদ্দেশ্যে জামায়াতের কর্মীরা গোপন বৈঠক করছিলেন। এমন তথ্য পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নাশকতা ও রাষ্ট্রবিরোধী আলোচনা চলার সময় জামায়াতে ইসলামীর আট নারী কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ।

এছাড়া, অন্য কোনো গণমাধ্যমেও আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সুতারাং, ‘বাড়ি বাড়ি গিয়ে সহজ সরল মহিলাদের ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার সংগ্রহ করতে গেলে, জামায়াতের নারী কর্মীদেরকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয় এলাকাবাসী।’ শিরোনামে আমার দেশের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

Share: