হাদিকে হত্যার ঘটনায় ভারতকে জড়িয়ে নাহিদ ইসলামের মন্তব্য দাবিতে যমুনা টিভির সম্পাদিত ফটোকার্ড

গত ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। এরপর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতভর দেশের বিভিন্ন স্থানে ভবনে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ওইদিন চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কার্যালয় লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোড়ার সংবাদও পাওয়া যায়। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ‘আমাদের জুলাইয়ের সহযোদ্ধা ওসমান হাদী ভাইকে, কারা হত্যা করেছে এখোন সঠিক তথ্য নাই আমাদের কাছে, ভারতের দূতাবাসে যেয়ে আমাদের কোন ধরনের ঝামেলা না করা উচিত। আগে প্রমান হোক ভারত এই হত্যার সাথে জড়িত। তখোন আমরা কুটনৈতিক ভাবে তাদেরকে চাপ দিতে পারবো।’ শীর্ষক মন্তব্য করেছেন দাবিতে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম যমুনা টেলিভিশনের ডিজাইন সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

ফেসুবকে প্রচারিত এমন ফটোকার্ড দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত শিরোনামে নাহিদ ইসলামের নামে যমুনা টিভি কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। তার এমন বক্তব্য প্রদানের সত্যতাও মেলেনি। প্রকৃতপক্ষে, ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনায় সংঘটিত সহিংসতাকে উদ্দেশ্য করে নাহিদ ইসলামের ভিন্ন বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে যমুনা টিভিতে প্রচারিত একটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে আলোটিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে মূলধারার গণমাধ্যম যমুনা টিভির লোগো লক্ষ্য করা যায়। এরই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে যমুনা টিভির ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি যমুনা টিভির ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলেও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা সংবাদ পাওয়া যায়নি।

তবে গত ১৯ ডিসেম্বর গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজে সেদিনের সহিংসতার ঘটনায় প্রচারিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ফটোকার্ডেও নাহিদ ইসলামের একই ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু ছবিটিতে তার বাম পাশের কাঁধের দিকে কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও যমুনা টিভির ফটোকার্ড এবং আলোচিত ফটোকার্ডটিতে নাহিদ ইসলামের নাম এবং পদবী উল্লেখের স্থানের ভিন্নতাও দেখা যায়। পাশাপাশি উভয় ফটোকার্ডে শিরোনাম লেখার ক্ষেত্রে পৃথক পৃথক ফন্টও ব্যবহার করতে দেখা যায়। যা থেকে ধারণা করা যায়, যমুনা টিভির উক্ত ফটোকার্ডটি ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে ‘গতকালের মতো ভাঙচুর ও নাশকতা করার পরিকল্পনা রয়েছে জুলাই বিরোধী শক্তিগুলোর। আমরা যেকোনো প্রকার ভায়োলেন্স ও নাশকতার বিরুদ্ধে। জনগণের ক্ষোভকে ব্যবহার করে কোনো হঠকারী গ্রুপ কোথাও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ অথবা কোনো নাশকাতমূলক কার্যক্রম যাতে করতে না পারে সে ব্যাপারে ভূমিকা পালন করুন।’ শীর্ষক লেখাটি মুছে সেখানে আলোচিত মন্তব্যটি যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও অনুসন্ধানে গণমাধ্যম কিংবা অন্যকোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে নাহিদ ইসলামের আলোচিত মন্তব্যটি করার সত্যতা পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় ভারতকে জড়িয়ে নাহিদ ইসলামের মন্তব্য দাবিতে যমুনা টিভির নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

  • Jamuna Television Facebook Post
  • Rumor Scanner’s Analysis
Share: