জামায়াতের আমীরের সাথে অজিত দোভালের বৈঠক দাবিতে যুগান্তরের নামে ভুয়া ফটোকার্ড এবং এআই-নির্মিত ছবি প্রচার

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ‘ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে জামায়াতের আমিরের গোপন বৈঠক’ সূচক প্রতিবেদন প্রকাশ করে কতিপয় জাতীয় গণমাধ্যম৷ এরই প্রেক্ষিতে ‘দিল্লিতে বসেই হাদি হত্যার পরিকল্পনা! জামায়াতের আমিরের সাথে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ছবি ফাঁস করল বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম রয়টার্স।’ শিরোনামে ডা. শফিকুর রহমান ও অজিত দোভালের ছবিযুক্ত গণমাধ্যম যুগান্তর এর লোগো ও ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)৷
উক্ত দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে ডা. শফিকুর রহমান ও অজিত দোভালকে জড়িয়ে যুগান্তর এরূপ কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় যুগান্তরের প্রচলিত ফটোকার্ডের আদলে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া, আলোচিত ফটোকার্ডে সংযুক্ত ডা. শফিকুর রহমান ও অজিত দোভালের ছবিটিও আসল নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি একটি ছবিকে আসল দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে যুগান্তরের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ০১ জানুয়ারি, ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে।
উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে যুগান্তরের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, যুগান্তরের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, যুগান্তরের প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

যুগান্তর ব্যতীত অন্য কোনো গণমাধ্যমেও উক্ত দাবিকে সমর্থন করে এমন কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি৷
২০২৫ সালে ডা. শফিকুর রহমানের বাইপাস সার্জারির পর অন্যান্য দেশের কূটনীতিকদের পাশাপাশি সেসময় ভারতের দুজন কূটনীতিকও তার বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। ভারতীয় কূটনীতিকেরা সেই বৈঠকটি গোপন রাখতে বলেছিলেন বলে জানান জামায়াতের আমির। কিন্তু সেই বৈঠকে ভারতের কোন কোন কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন, তাদের কোনো ছবি কিংবা সেখানে কী কথা হয়েছিল রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
উক্ত বৈঠকের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্ট থেকেও উল্লিখিত বিষয়াবলী সম্পর্কিত কোনো তথ্য বা ছবি পাওয়া যায়নি৷
এছাড়া, গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাথে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের আলোচিত বৈঠক বা অন্য কোনো বৈঠকের ছবি পাওয়া যায়নি।
উক্ত ছবিটির বিষয়ে অধিকতর নিশ্চিত হতে এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘DeepFake-O-Meter’ এর মাধ্যমে ছবিটি পরীক্ষা দেখা যায়, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৮.৩৬ শতাংশ।

সুতরাং, রয়টার্সের বরাতে ডা. শফিকুর রহমান ও অজিত দোভালকে জড়িয়ে যুগান্তরের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া এবং এ দুজনের নামে প্রচারিত ছবিটি এআই-নির্মিত।
তথ্যসূত্র
- Jugantor – Facebook Page
- Jugantor – Website
- Jugantor – YouTube Channel
- Reuters – Bangladesh’s Islamist party open to unity government after February vote
- Dr. Shafiqur Rahman – Facebook Post
- DeepFake-O-Meter – Website

