বরিশালে ভ্যান চালককে কুপিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রদল কর্মী দাবিতে জনকণ্ঠের নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বরিশালে ভ্যান চালককে কুপিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রদল কর্মী’ শিরোনামে সংবাদমাধ্যম জনকণ্ঠের ডিজাইন সম্বলিত একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘বরিশালে ভ্যান চালককে কুপিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রদল কর্মী’ শিরোনামে জনকণ্ঠ কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজে প্রচারিত ভিন্ন একটি ফটোকার্ড ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটিতে জনকণ্ঠের লোগো এবং প্রকাশের তারিখ হিসেবে ১১ জানুয়ারি ২০২৬ উল্লেখ আছে। অনুসন্ধানে জনকণ্ঠের ফেসবুক পেজে গত ১১ জানুয়ারিতে প্রকাশিত বরিশালে ভ্যান চালককে কু/পি/য়ে হ/ত্যা শীর্ষক শিরোনাম সংবলিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডের সাথে উক্ত ফটোকার্ডের শিরোনাম এবং লেখার ফন্টে ভিন্নতা রয়েছে। তবে ফটোকার্ডে ব্যবহৃত কোলাজ ছবিটির মিল রয়েছে। অর্থাৎ, জনকণ্ঠের নামে এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

মূল ফটোকার্ড সম্বলিত জনকণ্ঠের মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১০ জানুয়ারি দিবাগত রাত সাড়ে এগারোটার দিকে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পূর্ব কাসেমাবাদ এলাকায় এক ভ্যান চালককে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত ভ্যান চালক মঞ্জু বেপারী (৫০) পূর্ব কাসেমাবাদ গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ বেপারীর ছেলে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভ্যান চালক মঞ্জু বেপারী যাত্রী নামিয়ে রাতে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বাড়ির সন্নিকটে মৃত ইয়াসিন খানের বাড়ি সংলগ্ন নির্জন এলাকায় পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে।

এই সংবাদের কোথাও ভ্যানচালককে ছাত্রদল কর্মী খুন করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। বিশ্বস্ত অন্যান্য গণমাধ্যমেও এই সংক্রান্ত কোনো সংবাদ প্রকাশ করা হয়নি।

সুতরাং, ‘বরিশালে ভ্যান চালককে কুপিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রদল কর্মী’ দাবিতে জনকণ্ঠের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: