গত ২০ এপ্রিল জাপানে ৭.৫ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এরই প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে দেশিয় নানা গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়৷ কিছু সংবাদমাধ্যমে এই ভূমিকম্পের দৃশ্য দাবিতে দুইটি দৃশ্যও প্রচার করা হয়েছে। একটি দৃশ্যতে দেখা যায় ভূমিকম্পে একটি সড়ক কাঁপছে। আর অপরটিতে ভূমিকম্পে একটি দোকানের শেলফ বা তাক ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

ভিডিওগুলো জাপানের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের দৃশ্য দাবিতে গণমাধ্যমে প্রচারিত পোস্ট দেখুন : দেশ টিভি (ইউটিউব), ইত্তেফাক (ইনস্টাগ্রাম), মানবকণ্ঠ (ফেসবুক), রূপালী বাংলাদেশ (ইউটিউব), নাগরিক প্রতিদিন (ফেসবুক), বাংলা স্টার নিউজ (ফেসবুক), বাংলাদেশ সময় (ইউটিউব)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওগুলো সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের ভূমিকম্পের দৃশ্যের নয়৷ প্রকৃতপক্ষে একটি ভিডিও ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জাপানের ভূমিকম্পের দৃশ্যের এবং অপরটি ২০২৫ সালের ২৮ মার্চে মায়ানমারে আঘাত হানা ভূমিকম্পের দৃশ্যের।
ভিডিও যাচাই ১:
আলোচিত দাবিতে প্রচারিত প্রথম ভিডিওর (সড়কের দৃশ্য) বিষয়ে অনুসন্ধানে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ‘Dheeraj Rock’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে একই ভিডিওর সন্ধান পাওয়া যায়। ভিডিওতে এটিকে ২০২৪ সালে জাপানের ভূমিকম্পের দৃশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে জাপানের ওসাকা ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মাইনিচি ব্রডকাস্টিং সিস্টেম (এমবিএস নিউজ)-এর ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি প্রকাশিত একই ভিডিওর দীর্ঘ সংস্করণ পাওয়া যায়। ভিডিওর বর্ণনায় বলা হয়, ‘১ জানুয়ারি শক্তিশালি কম্পন অনুভূত হওয়া ইশিকাওয়া প্রিফেকচারের নোটো উপদ্বীপে সর্বোচ্চ ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের মুহূর্তের একটি ভিডিও এটি, যা আনামিজু শহরে চলন্ত একটি গাড়ির ভেতর থেকে ধারণ করা হয়েছে।’ (স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনূদিত)
অর্থাৎ, প্রচারিত ভিডিওটি ২০২৪ সালের।
ভিডিও যাচাই ২:
আলোচিত দাবিতে প্রচারিত দ্বিতীয় ভিডিওর (দোকানের তাক ভেঙে পড়ার দৃশ্য) বিষয়ে অনুসন্ধানে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’ এর এক্স অ্যাকাউন্টে গত বছরের ০১ এপ্রিলে প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির তুলনা করলে মিল পাওয়া যায়। ভিডিওটির সম্পর্কে এক্স পোস্টটিতে বলা হয়, “ভূমিকম্পে মিয়ানমারের দোকানে তাক ভেঙে পড়লো।” (অনূদিত)

এছাড়াও, ‘নেক্সটা’ নামক একটি পূর্ব ইউরোপীয়ান গণমাধ্যমের এক্স অ্যাকাউন্টেও আলোচিত ভিডিওটি গত বছরের ৩০ মার্চে প্রচার হতে দেখা যায়। পোস্টটিতে বলা হয়, “এই মেয়েটি তার কর্মস্থলে ভূমিকম্প থেকে বেঁচে ফিরেছে। মিয়ানমারে ভূমিকম্পের তীব্রতা রিখটার স্কেলে ৭.৭ পৌঁছেছে। এই দুর্ঘটনার পর হতাহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৃতের সংখ্যা হাজার হাজার হতে পারে – উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে।” (অনূদিত)
অনুসন্ধানে আলবেনিয়ান ভিত্তিক গণমাধ্যম ‘টেলিগ্রাফি’র ওয়েবসাইটেও আলোচিত দৃশ্য মায়ানমারের ভূমিকম্পের দাবিতে পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, ভিডিওটি ২০২৫ সালের ২৮ মার্চে মায়ানমারে আঘাত হানা ভূমিকম্পের দৃশ্যের।
সুতরাং, জাপানে গত ২০ এপ্রিলের ভূমিকম্পের দৃশ্য দাবিতে মায়ানমার ও জাপানের পুরোনো ভূমিকম্পের ঘটনার দৃশ্য প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
- Dheeraj Rock – जापान मे भूकंप
- MBS News – 【地震の瞬間】家の壁が崩れ…激しく揺れる電線 立ちすくむ人も 能登半島地震 石川・穴水町の様子【ドラレコ映像】
- Daily Mail – X Post
- NEXTA – X Post
- Telegrafi – This girl experiences the horror during the earthquake in Myanmar – she reportedly survived by a miracle


