রাজশাহীতে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষকে ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ দাবিতে প্রচার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংঘর্ষের একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ‘রাজশাহী সিটি কলেজের ছাত্রশিবিরের নতুন কমিটি নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষ’।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি রাজশাহী সিটি কলেজের ছাত্রশিবিরের নতুন কমিটি নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষের দৃশ্যের নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওটি রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার জেরে গত ১৯ জুন ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্যের।

আলোচিত ভিডিওর বিষয়ে অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’র ইউটিউব চ্যানেলে ‘কমিটি ঘোষণার পর রাজশাহী সিটি কলেজে ছাত্রদলের দুই পক্ষে ব্যাপক মারামারি’ শিরোনামে গত ১৯ জুন প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওতে প্রদর্শিত দৃশ্যের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়।

এছাড়াও, অনুসন্ধানে রাজশাহী ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘পদ্মাটাইমস২৪ ডটকম’ এর ফেসবুক পেজেও ছাত্রদলের মারামারি দাবিতে আলোচিত ঘটনার ভিডিও প্রচার হতে দেখা যায়।

এরই সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘বাংলা ট্রিবিউন’ এর ওয়েবসাইটে ‘রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিক্ষোভ, দুইপক্ষের হাতাহাতি’ শিরোনামে গত ১৯ জুনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি দেখে নেতাকর্মীদের বড় অংশই ক্ষুব্ধ। তারা এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ করেছেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকালে কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরে সিটি কলেজ শাখার ৯ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আবু সাঈদ হাসানকে আহ্বায়ক ও শামানুল হক হৃদয়কে সদস্য সচিব করা হয়। এই কমিটি নিয়েই নেতাকর্মীদের ক্ষোভ।..’

অর্থাৎ, উপরোক্ত তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট যে মারামারির ভিডিওটি কমিটি নিয়ে ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের দৃশ্যের নয় বরং, কমিটি নিয়ে ছাত্রদলের সংঘর্ষের দৃশ্যের।

সুতরাং, রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রশিবিরের নতুন কমিটি নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও দাবিতে উক্ত কলেজে ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: