সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয় যে এটি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ইফতার মাহফিলের দৃশ্য, যেখানে কাওয়ালী গানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, মঞ্চে বসে পাঁচজন পুরুষ শিক্ষার্থী ও একজন নারী শিক্ষার্থী কাওয়ালী পরিবেশনায় অংশ নিয়েছেন এবং সঙ্গীতের সঙ্গে তাল মেলাচ্ছেন। তাদের পেছনে ব্যানারে লেখা ছিল বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

উক্ত দাবির ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ছাত্রশিবিরের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে এমন কোনো কাওয়ালি গানের আয়োজন ছিল না। প্রকৃতপক্ষে, ইফতার মাহফিল শেষে শিক্ষার্থী ও দায়িত্বশীলরা নামাজের জন্য মসজিদে গেলে প্যান্ডেল, আলোকসজ্জা ও ব্যানার সরানো হয়নি। এ সময় ফাঁকা স্টেজে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাকরিম আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল মঞ্চে উঠে ভিডিওটি ধারণ করে এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সেক্রেটারি এবং জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানের মঞ্চে কাওয়ালী বা অন্য কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়নি। আলোচিত ভিডিওটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টরা ছাত্রশিবির সংগঠনের কেউ নন।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এনপিবি নিউজের এক সংবাদ প্রতিনিধি হাসিব সরদার জানান, ইফতার মাহফিল শেষে শিক্ষার্থী ও দায়িত্বশীলরা নামাজের জন্য মসজিদে চলে যান। সে সময় প্যান্ডেল, আলোকসজ্জা ও ব্যানার অপসারণ করা হয়নি। তখন ফাঁকা স্টেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাকরিম আহমেদ এবং জকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া ছাত্রফ্রন্ট সমর্থিত মাওলানা ভাসানী ব্রিগেড প্যানেলের কয়েকজন প্রার্থী মঞ্চে উঠে ভিডিওটি ধারণ করেন এবং সেটি তাকরিম আহমেদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়লে তাকরিম আহমেদ পরবর্তী সময়ে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি সরিয়ে ফেলেন। পাশাপাশি আরেকটি পোস্টে তিনি এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের ইফতার অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে চারদিকে আলোকসজ্জা ছিল এবং অনেকেই সেখানে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। আয়োজনের পরিবেশটি কাওয়ালীর মতো একটি ‘ভাইব’ তৈরি করায় তিনি বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করেন। এটি কেবল মজা করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল কোনো সংগঠনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্কিত করার লক্ষ্য তাদের ছিল না।
সুতরাং, শিবিরের জবি শাখার ইফতার অনুষ্ঠানে কাওয়ালী গানের আয়োজন করা হয়েছিল দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা।


