ভোলায় যুবলীগ নেতা হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াত-শিবিরের হামলায় বিএনপি নেতা নিহত দাবিতে প্রচার 

সম্প্রতি ‘বিএনপির নেতাকে কু”পি”য়ে হ*ত্যা করলেন জামাত শিবিরের নেতাকর্মীরা চাপাইনবাবগঞ্জ’ ক্যাপশনে একটি ভিডি ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করা হয়েছে৷

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)৷

উক্ত দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটির জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী কর্তৃক বিএনপির নেতাকে কুপিয়ে হত্যার কোনো ঘটনার সংশ্লিষ্ট নেই। প্রকৃতপক্ষে, ভোলায় ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুর রহিম ভুট্টোকে কুপিয়ে হত্যার পর তার স্বজনদের আহাজারির ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘ভোলা প্রতিদিন.কম’ নামক ফেসবুক পেজে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত আলোচিত ভিডিওটির অনুরূপ একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ভিডিওটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, এটি ভোলার শশীভুষন থানাধীন রসুলপুর ইউনিয়নে ভুট্টু নামের এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যার পর তার স্বজনদের আহাজারির দৃশ্য।

উক্ত তথ্যের সূত্রে ধরে বাংলা ট্রিবিউনের ওয়েবসাইটে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ‘ভোলায় যুবলীগের নেতাকে কুপিয়ে হত্যা’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবির সাথে আলোচিত ভিডিওটির দৃশ্যের সাদৃশ্য রয়েছে।

উক্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ভোলার চরফ্যাশনে আবদুর রহিম নামে যুবলীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে শশীভূষণ থানার রসুলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলেরহাট রাস্তার মাথায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুর রহিম (৪৫) রসুলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আখতারুজ্জামানের ছেলে এবং ওই ওয়ার্ডের যুবলীগের আহ্বায়ক। তাকে হত্যার আগের দিন তার ছেলেকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতরা ভোলা-৪ আসনে (মনপুরা ও চরফ্যাশন উপজেলা) বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম নয়নের অনুসারী বলে অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় লোকজন।

স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের আগের দুই রাতে জোর করে আবদুর রহিমের দুটি খাসি জবাই করে খেয়ে ফেলেন আমজাদ হোসেন, বিল্লাল হোসেন, সম্রাটসহ স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন। তারা ভোলা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলামের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। খাসি খাওয়ার প্রতিবাদ করলে প্রথমে আবদুর রহিমের ছেলে আমির হোসেনকে গত শুক্রবার রাতে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তার মুখের হাড় ও চোয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় আবদুর রহিম ‘ছাগলখেকোদের’ গালাগাল করলে ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতের বেলা তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আবদুর রহিম একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। খাসি খাওয়া ও মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পরবর্তীতে, এ বিষয়ে প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রেও একই তথ্য জানা যায়।

উক্ত প্রতিবেদন সূত্রে আরও জানা যায়, নিহত আব্দুর রহিম রসুলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগের আহ্বায়ক ছিলেন বলে প্রথম আলোকে তাঁর সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত করেছেন শশীভূষণ থানা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. ফারুক হোসেন।

সুতরাং, ভোলায় ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ককে হত্যার ঘটনাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী কর্তৃক বিএনপির নেতাকে হত্যা দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: