সম্প্রতি, অভিনেত্রী পরী মণিকে নিয়ে কন্ঠশিল্পী ও বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর অশালীন মন্তব্য করেছেন দাবিতে দৈনিক যুগান্তরের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হয়, আসিফ আকবর ‘পরীমনি কে দেখে হস্তমৈথুন করতেন, হস্তমৈথুন খারাপ কিছুনা, হস্তমৈথুন ইয়াজিদী শরীয়তে হালাল’ শীর্ষক মন্তব্য করেছেন।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ফটোকার্ড দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘পরীমনি কে দেখে হস্তমৈথুন করতেন, হস্তমৈথুন খারাপ কিছু না, হস্তমৈথুন ইয়াজিদী শরীয়তে হালাল: আসিফ আকবর কন্ঠশিল্পী ও বিসিবি পরিচালক ‘ শীর্ষক শিরোনামে জাতীয় দৈনিক যুগান্তর কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। এছাড়া আসিফ আকবরও আলোচিত মন্তব্যটি করেননি। প্রকৃতপক্ষে, যুগান্তরের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ভিন্ন একটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে যুগান্তরের লোগো ও কন্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের ছবি রয়েছে। উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে যুগান্তরের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, যুগান্তরের ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল এবং আসিফ আকবরের ফেসবুক পেজেও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে, যুগান্তরের ফেসবুক পেজে গত ১৫ জানুয়ারি ‘পরীমনিকে যতটুকু দেখি, সে একটু খামখেয়ালী। তাকে আমি প্রশ্ন করতে চাই- ‘তুমি আমাদের মুক্তি দেবে কবে? তুমি একটা কিছু করো, সেটেল ডাউন হও। কিভাবে করবে, সেটাও আমাকে বলো : কণ্ঠশিল্পী ও বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডের ছবি ও গ্রাফিক্যাল ডিজাইনের সাথে এর সাদৃশ্য রয়েছে।

তাছাড়া, যুগান্তরের প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়। অর্থাৎ, আসিফ আকবরের মন্তব্য দাবিতে যুগান্তরের নামে প্রচারিত আলোচিত এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং, পরী মণিকে নিয়ে আসিফ আকবরের অশালীন মন্তব্যসহ যুগান্তরের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।


