সম্প্রতি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিল উত্থাপন করতে গিয়ে ভাষাগত জটিলতায় পড়েন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। ফলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নুরের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও বর্তমানে বিএনপি কর্মী রাশেদ খাঁনকে জড়িয়ে ‘চাটতে চাটতে জিহ্বায় ঘা হয়ে যাওয়াতে পড়তে কষ্ট হচ্ছে প্রতিমন্ত্রী নূরের: বিকাশ এজেন্ট রাশেদ খান’ শিরোনামে মূলধারার সংবাদমাধ্যম দৈনিক যুগান্তরের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে।
উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, নুরুল হক নুরের চাটতে চাটতে জিহ্বায় ঘা হয়ে যাওয়াতে পড়তে কষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেননি রাশেদ খাঁন এবং দৈনিক যুগান্তরও এরূপ কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় দৈনিক যুগান্তর কর্তৃক প্রকাশিত ভিন্ন একটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে এই ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে মূলধারার সংবাদমাধ্যম দৈনিক যুগান্তরের লোগো রয়েছে। এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ০৯ এপ্রিল, ২০২৬।
উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে দৈনিক যুগান্তরের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, দৈনিক যুগান্তরের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে, দৈনিক যুগান্তরের ফেসবুক পেজে গত ০৯ এপ্রিল ‘লেখায় অসামঞ্জস্যতা থাকায় পড়তে সমস্যা হয়েছে প্রতিমন্ত্রী নুরের: রাশেদ খাঁন’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ফটোকার্ডের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল লক্ষ্য করা যায়।
উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটির সাথে দৈনিক যুগান্তরের লোগো এবং রাশেদ খাঁনসহ সংসদে নুরুল হক নুরের ছবির মিল রয়েছে। তবে, উভয়ের ফটোকার্ডে ব্যবহৃত শিরোনামের ভিন্নতা রয়েছে।
অর্থাৎ, দৈনিক যুগান্তরের এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
মূল ফটোকার্ড সংবলিত দৈনিক যুগান্তরের ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাশেদ খাঁন বলেন, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর পড়তে গিয়ে বাক্যের সামঞ্জস্যতা পাচ্ছিলেন না, এজন্য তিনি পড়তে গিয়ে আটকে গেছেন। নিজেও বুঝতেছিলেন শব্দ বাক্য মিলতেছেনা। এটা দাপ্তরিক ভুল। মন্ত্রীরা তো নিজেরা লিখে না, এটা প্রস্তুত করে তাদের সামনে দেওয়া হয়। এটা শুধু তার ক্ষেত্রে না, সবার ক্ষেত্রেই। সমস্যা হয়েছে, তিনি হয়তো পূর্বে বিষয়টি সময়ের স্বল্পতার কারণে খেয়াল করতে পারেননি। আর সংসদে তিনি নতুন। বলা যায় মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে তরুণ….।
সুতরাং, ‘চাটতে চাটতে জিহ্বায় ঘা হয়ে যাওয়াতে পড়তে কষ্ট হচ্ছে প্রতিমন্ত্রী নূরের’ শীর্ষক দাবিতে রাশেদ খাঁনকে জড়িয়ে দৈনিক যুগান্তরের নামে প্রচারিত এই ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।
তথ্যসূত্র
- Jugantor – Facebook Post


