ছাত্রলীগ কর্মীর ওপর বিএনপির হামলা দাবিতে জুলাই আন্দোলনের ভিডিও প্রচার

ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে কলেজে যাওয়ার পথে এক ছাত্রকে ‘বিএনপির সন্ত্রাসীরা’ হত্যার চেষ্টা করেছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, হেলমেট পরা কয়েকজন ব্যক্তি ব্যাগ কাঁধে থাকা এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করছেন। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলে হেলমেট পরা একজন তাকে লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করেন। পরে আরেক ব্যক্তি এসে বাধা দিলে হামলাকারী মারধর বন্ধ করে সেখান থেকে চলে যান।

উক্ত দাবিতে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

একই দাবিতে ইন্সটাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটি ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে কোনো কলেজছাত্রকে ‘বিএনপির সন্ত্রাসীদের’ হত্যাচেষ্টার দৃশ্য নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময়ের একটি ভিডিওকে সম্প্রতি উক্ত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ‘গল্পের লিংক (Story Link) + গ‌ল্পের রি‌ভিউ’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে পরিচয় গোপন রাখা এক ফেসবুক ব্যবহারকারীর প্রকাশিত একই দৃশ্যসংবলিত ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও থেকে ১৮ সেকেন্ডের অংশ কেটে এবং ফ্রেম জুম করে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।

ভিডিওটির ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, ‘বিইউবিটি ও কমার্স কলেজের আশপাশে সহায়তা প্রয়োজন। অনুগ্রহ করে তাদের সাহায্য করুন।’ ভিডিওটির মন্তব্যঘরে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী পোস্টকারীর উদ্দেশে ছাদ থেকে হামলাকারীদের লক্ষ্য করে আঘাত করার আহ্বান জানান। এর জবাবে পোস্টকারী বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে থাকা একজনের কাছ থেকে ভিডিওটি সংগ্রহ করে পোস্ট করেছেন।

পোস্টে উল্লেখ থাকা বিইউবিটি ও কমার্স কলেজ এবং দীর্ঘ ভিডিওটিতে দেখা যাওয়া ব্যানারের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে ভিডিওটির স্থান শনাক্ত করে রিউমর স্ক্যানার। দেখা যায়, ভিডিওটি রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকায় ঢাকা কমার্স কলেজ ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)-এর মধ্যবর্তী এলাকায় ধারণ করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৭ জুলাই রাজধানীর রূপনগর থানায় বিইউবিটির অজ্ঞাত ৫০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিইউবিটির ৪০০ থেকে ৫০০ শিক্ষার্থী সড়ক অবরোধ করলে পরে সেখানে বহিরাগতরাও জড়ো হয়। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে এলে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা সেদিনের মতো আন্দোলন স্থগিত করে চলে যাওয়ার জন্য পুলিশের সহযোগিতা চাইলে অজ্ঞাতনামা বহিরাগতদের মধ্য থেকে হঠাৎ ‘ভুয়া ভুয়া’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে।

সুতরাং, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময়ের একটি ভিডিওকে সম্প্রতি ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে কোনো কলেজছাত্রকে ‘বিএনপির সন্ত্রাসীদের’ হত্যাচেষ্টার দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: