তারেক রহমান ও সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে কালের কণ্ঠের নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

গত ২৯ নভেম্বর Kutub Uddin নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে জাতীয় দৈনিক পত্রিকা কালের কণ্ঠের একটি নিউজ ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়। যাতে লেখা ছিল, ‘তারেক রহমানকে নির্যাতন করা তৎকালীন ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তারা এখন সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল পদে। ব্যবস্থা নেয়নি ইউনুস সরকার।’ পোস্টকারী ক্যাপশনে লিখেছেন, “এ কারণেই দেশে আসেনা তারেক রহমান।”

ফেসবুকে প্রচারিত এ সংক্রান্ত দাবির পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘তারেক রহমানকে নির্যাতনের সাথে জড়িত তৎকালীন ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তারা এখন সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল পদে এবং ইউনূস সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি’ এমন শিরোনামে কালের কণ্ঠ কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় গণমাধ্যমটির ডিজাইন নকল করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে মূলধারার গণমাধ্যম কালের কণ্ঠের লোগো এবং প্রকাশের তারিখ হিসেবে ২৮ নভেম্বর ২০২৫ উল্লেখ রয়েছে। এরই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলেও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা সংবাদ পাওয়া যায়নি।

ফটোকার্ড বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফেসবুকে প্রচারিত ফটোকার্ডটির টাইপোগ্রাফি ও ডিজাইন কালের কণ্ঠের অফিসিয়াল ফটোকার্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংবাদমাধ্যমটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ব্যবহৃত ফটোকার্ডগুলোর তুলনায় আলোচিত ফটোকার্ডের ফন্ট স্টাইল এবং আকারের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। কালের কণ্ঠ সাধারণত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির মাঝ বরাবর নিচের দিকে নিজস্ব লোগো স্থাপন করে, যা প্রচারিত কার্ডটিতে অনুপস্থিত। কালের কণ্ঠের ফটোকার্ডে শিরোনামের শেষে দাঁড়ি (।) থাকে না যা আলোচিত ফটোকার্ডে রয়েছে।

আবার, নিচের ইনফরমেশন স্ট্রিপে তারিখ, ওয়েবসাইট নাম এগুলো লেখার ধরনেও বৈসাদৃশ্য রয়েছে। কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইট নামের জায়গায় kalerkantho.com লেখা থাকে কিন্তু ভুয়া ফটোকার্ডে www.kalerkantha.com লেখা হয়েছে।

সুতরাং, তারেক রহমানকে নির্যাতন করা তৎকালীন ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তারা এখন সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল পদে আছেন এবং ইউনূস সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি দাবি করে কালের কণ্ঠের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

Share: