সম্প্রতি, সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীন “শেখ হাসিনা জনগণের টাকা দিয়েই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু বানাতে পারে, অথচ ড. ইউনূস সরকার শিশুদের জন্য সামান্য টিকা কিনতে পারেনা, সেই টাকা দিয়ে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য ফ্ল্যাট বানায়।” শীর্ষক মন্তব্য করেছেন দাবিতে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
উক্ত দাবিতে ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে।
একই দাবির পোস্ট দেখুন ইনস্টাগ্রাম, টিকটকে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, খালেদ মুহিউদ্দীন “শেখ হাসিনা জনগণের টাকা দিয়েই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু বানাতে পারে, অথচ ড. ইউনূস সরকার শিশুদের জন্য সামান্য টিকা কিনতে পারেনা, সেই টাকা দিয়ে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য ফ্ল্যাট বানায়।” শীর্ষক মন্তব্যটি করেননি। প্রকৃতপক্ষে, আলোচিত মন্তব্যটি প্রথম একটি সার্কাজম পেজ থেকে প্রচার করা হয়েছে; যা পরবর্তীতে আসল দাবিতে ছড়িয়ে পড়েছে।
খালেদ মুহিউদ্দীন এমন মন্তব্য করলে তা গণমাধ্যমে সংবাদ আকারে প্রকাশ হতো। কিন্তু, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে এমন কোনো মন্তব্য গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, খালেদ মুহিউদ্দীনের ফেসবুক প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করেও এমন কোনো মন্তব্যের তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
খালেদ মুহিউদ্দীন রিউমর স্ক্যানারকে জানিয়েছেন, তিনি এমন কোনো মন্তব্য করেননি।
পরবর্তীতে, আলোচিত দাবিটির সূত্রপাতের বিষয়ে অনুসন্ধান করে রিউমর স্ক্যানার। অনুসন্ধানে ‘The Back Space’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ২৮ এপ্রিল প্রচারিত সম্ভাব্য প্রথম পোস্টটি খুঁজে পাওয়া যায়। তবে, উক্ত পোস্টে কোনো সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।
পরবর্তীতে ‘The Back Space’ নামক ফেসবুক পেজটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি একটি সার্কাজম পেজ। পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে এরূপ আরও অনেক ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট পাওয়া যায়। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আলোচিত পোস্টটিও মূলত ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং, খালেদ মুহিউদ্দীন “শেখ হাসিনা জনগণের টাকা দিয়েই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু বানাতে পারে, অথচ ড. ইউনূস সরকার শিশুদের জন্য সামান্য টিকা কিনতে পারেনা, সেই টাকা দিয়ে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য ফ্ল্যাট বানায়।” শীর্ষক মন্তব্য করেছেন দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- The Back Space: Facebook Post


