খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বাসা থেকে টাকা উদ্ধারের দাবিটি ভুয়া

সম্প্রতি, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বাসা থেকে ৭ বস্তা ও সিন্দুক ভর্তি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে দাবিতে একটি ভিডিও প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রচারিত ভিডিও প্রতিবেদনটির শুরুতে সংবাদপাঠিকাকে বলতে শোনা যায়, হাবিবুর রহমান হাবিবকে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে র‌্যাব গ্রেফতারও করেছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা শামীম সাঈদীর ফেসবুক প্রোফাইলে শেয়ারকৃত একই ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে

ইউটিউবে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে

থ্রেডস প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, হাবিবুর রহমান হাবিবের বাসা থেকে টাকা উদ্ধারের কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং তাকে গ্রেফতারও করা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, ক্যাসিনোকাণ্ডের সাথে জড়িত গেণ্ডারিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়ার বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রচারিত পুরোনো একটি প্রতিবেদনের ফুটেজের সাথে ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার কয়েকটি ফুটেজ যুক্ত করে আলোচিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

ভিডিও যাচাই ১

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ভিডিওটি পর্যালোচনা করে রিউমর স্ক্যানার প্রতিবেদনটির শুরুতে থাকা সংবাদপাঠিকার ফুটেজে ইলেকট্রনিকগণমাধ্যম একাত্তর টিভির লোগো এবং ‘বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান গ্রেপ্তার’ শিরোনাম দেখতে পায়।

পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর একাত্তর টিভির ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত মূল প্রতিবেদনটি খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, বিচারককে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও আদালতে হাজির না হওয়ায় তাকে সেসময় মিরপুরের ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। প্রতিবেদনটিতে তার বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার হওয়ার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। এছাড়াও সেসময় তার গ্রেফতার হওয়ার সাথেও এমন কোনো ঘটনার সম্পৃক্ততা আছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়নি।

ভিডিও যাচাই ২

পরবর্তীতে আলোচিত ভিডিওটিতে হাবিবুর রহমান হাবিবের একটি অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যের পর তার বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের দৃশ্য দাবিতে কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়। টাকা ‍উদ্ধারের ফুটেজগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধানে কিছু ফ্রেম রিভার্স সার্চের মাধ্যমে আরেক ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমে আরটিভি এর ইউটিউব চ্যানেলে ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কোটি টাকা ও ৭২০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, আ.লীগের দুই নেতা পলাতক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদনের সন্ধান পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, উক্ত প্রতিবেদনের ১ মিনিট ১০ সেকেন্ড থেকে লকার ভাঙার ফুটেজ থেকে পরবর্তী বেশকিছু ফুটেজের সাথে আলোচিত ভিডিওর মিল রয়েছে। আলোচিত ভিডিওটিতে ব্যবহৃত টাকা উদ্ধারের ফুটেজগুলোর সাথে আরটিভির প্রতিবেদনে থাকা ফুটেজগুলোর মিল লক্ষ্য করা যায়।

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, উক্ত ভিডিওটি ২০১৯ সালে অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্যের সাথে জড়িত ঢাকার গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক ভূঁইয়া এবং তার ভাই ও একই সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রূপন ভূঁইয়ারসহ তাদের সহযোগী ও কর্মচারীদের বাসায় র‌্যাবের অভিযান চালিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার।

অর্থাৎ, আলোচিত ভিডিওতে ব্যবহৃত টাকা উদ্ধারের ফুটেজের সাথে হাবিবুর রহমান হাবিবের কোনো সম্পর্ক নেই। এছাড়াও কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে গণমাধ্যম কিংবা অন্যকোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে হাবিবুর রহমান হাবিবের বাড়ি থেকে ৭ বস্তা টাকা উদ্ধারের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভিডিও যাচাই ৩

সর্বশেষ ভিডিওটিতে আরেক বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুর একটি ফুটেজ ব্যবহার করা হয়। যেখানে তাকে হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলতে দেখা যায়। কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে এনটিভির ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৬ জুন প্রচারিত জাকারিয়া পিন্টুর ওই বক্তব্যের পুরো ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়।

ভিডিওটিতে হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে জাকারিয়া পিন্টুর চাঁদাবাজির অভিযোগ করতে দেখা গেলেও তার বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের বিষয়ে বা হাবিবুর রহমানের গ্রেফতার হওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে শোনা যায়নি।

সুতরাং, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বাসা থেকে ৭ বস্তা ও সিন্দুক ভর্তি টাকা উদ্ধারের দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: