খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে একাধিক গণমাধ্যমের নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ২৩শে নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এরপর থেকে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন। এর মাঝে ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের গুরুতর সংক্রমণ নিয়ে ‘সংকটাপন্ন’ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার খবর আসে গণমাধ্যমে। তারপর থেকে বিভিন্ন সময় তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে বলেই বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ারও কথা চলছে। এরই প্রেক্ষিতে শর্ট ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম টিকটকে তার পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে জড়িয়ে ডিবিসি নিউজ, বাংলাভিশন ও কালের কণ্ঠের নামে পৃথক তিনটি ফটোকার্ড প্রচার হতে দেখেছে রিউমর স্ক্যানার।

ডিবিসি নিউজের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, ‘তারেক জিয়ার রাজনীতি ক্যারিয়ার বাঁচানোর জন্য খালেদা জিয়ার মৃত লাশ নিয়ে নাটক করতেছে ডঃ ইউনূস’।
কালের কণ্ঠ ও বাংলা ভিশনের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘খালেদা জিয়ার মৃত লাশ কোন দেশ গ্রহণ করতে চায় না সেজন্য এয়ারঅ্যাম্বুলেন্স আসতেছে না’।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে ডিবিসি নিউজ, বাংলা ভিশন ও কালের কণ্ঠ এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। এছাড়া, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনও খালেদা জিয়াকে নিয়ে এমন কোনো মন্তব্য করেননি।
প্রকৃতপক্ষে, গণমাধ্যমগুলোর ভিন্ন দাবি সংবলিত ফটোকার্ড সম্পাদনা করে এই ফটোকার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছে।
আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পৃথকভাবে যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার।
ডিবিসি নিউজের ফটোকার্ড যাচাই
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে ‘ডিবিসি নিউজ’ এর লোগো এবং প্রকাশের তারিখ হিসেবে ‘৬ই ডিসেম্বর, ২৫’ উল্লেখ রয়েছে।
উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে ডিবিসি নিউজের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, ডিবিসি নিউজের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে, ডিবিসি নিউজের ফেসবুক পেজে গত ০৬ই ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায় যেটির সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির আংশিক সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটির সাথে প্রচারিত ফটোকার্ডে থাকা ডিবিসি নিউজের লোগো, গ্রাফিক্যাল ডিজাইন, খালেদা জিয়া ও তার পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমানের ছবির মিল রয়েছে। তবে উভয়ের শিরোনামে ভিন্নতা রয়েছে। আলোচিত ফটোকার্ডটিতে ‘দেশেই চিকিৎসা নেওয়ার আগ্রহের কথা পুত্রবধূ ডা. জুবাইদাকে জানিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া’ শীর্ষক বাক্যের পরিবর্তে ‘তারেক জিয়ার রাজনীতি ক্যারিয়ার বাঁচানোর জন্য খালেদা জিয়ার মৃত লাশ নিয়ে নাটক করতেছে ডঃ ইউনূস’ শীর্ষক বাক্যের সংযুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া, আলোচিত ফটোকার্ডটিতে থাকা ফন্টের সাথেও ডিবিসি নিউজের ফটোকার্ডের শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের অমিল রয়েছে।
অর্থাৎ, ডিবিসি নিউজের এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
বাংলা ভিশনের ফটোকার্ড যাচাই
অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, উক্ত ফটোকার্ডটিতে বাংলা ভিশনের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ উল্লেখ রয়েছে।
উক্ত সূত্রগুলো ধরে অনুসন্ধানে গত ০৬ ডিসেম্বর বাংলা ভিশনের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায় যেটির সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির আংশিক সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটির সাথে প্রচারিত ফটোকার্ডে থাকা বাংলা ভিশনের লোগো, গ্রাফিক্যাল ডিজাইন এবং ডা. জাহিদের ছবির হুবহু মিল রয়েছে। তবে উভয়ের শিরোনামে ভিন্নতা রয়েছে। আলোচিত ফটোকার্ডটিতে
‘হঠাৎ উল্টে গেছে বিএনপি: জামায়াত নেতা তাহের’ শীর্ষক বাক্যের পরিবর্তে ‘খালেদা জিয়ার মৃত লাশ কোন দেশ গ্রহণ করতে চায় না সেজন্য এয়ারঅ্যাম্বুলেন্স আসতেছে না’ শীর্ষক বাক্যের সংযুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া, আলোচিত ফটোকার্ডটিতে থাকা ফন্টের সাথেও বাংলা ভিশনের ফটোকার্ডের শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের অমিল রয়েছে।
অর্থাৎ, বাংলা ভিশনের এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
কালের কণ্ঠের ফটোকার্ড যাচাই
অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, উক্ত ফটোকার্ডটিতে কালের কণ্ঠের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ উল্লেখ রয়েছে।
উল্লেখিত সূত্রগুলো ধরে অনুসন্ধানে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে এরূপ কোনো ফটোকার্ডের সন্ধান মেলেনি। এমনকি কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলেও আলোচিত দাবি সমর্থিত সংবাদ পাওয়া যায়নি।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটির সাথে প্রচারিত ফটোকার্ডে থাকা কালের কণ্ঠের লোগো, গ্রাফিক্যাল ডিজাইন এবং আমীর খসরুর ছবির হুবহু মিল রয়েছে। তবে উভয়ের শিরোনামে ভিন্নতা রয়েছে। আলোচিত ফটোকার্ডটিতে ‘তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরবেন, তার নেতৃত্বেই নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি’ শীর্ষক বাক্যের পরিবর্তে ‘খালেদা জিয়ার মৃত লাশ কোন দেশ গ্রহণ করতে চায় না সেজন্য এয়ারঅ্যাম্বুলেন্স আসতেছে না’ শীর্ষক বাক্যের সংযুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া, আলোচিত ফটোকার্ডটিতে থাকা ফন্টের সাথেও কালের কণ্ঠের ফটোকার্ডের শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের অমিল রয়েছে।
অর্থাৎ, কালের কণ্ঠের এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তারেক রহমান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে জড়িয়ে ডিবিসি নিউজ, বাংলা ভিশন ও কালের কণ্ঠের নামে প্রচারিত উল্লেখিত ফটোকার্ডগুলো সম্পাদিত।
তথ্যসূত্র
- DBC News: Facebook Post
- Kaler Kantho: Facebook Post
- Bangla Vision: Facebook Post

