খুলনা আদালত প্রাঙ্গণে শিশু ধর্ষণকারীকে গুলি করে হত্যার দাবিটি ভুয়া

খুলনায় আদালত প্রাঙ্গণে ধর্ষণ মামলার দুই আসামিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে শীর্ষক একটি দাবি গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখুন: বাহান্ন নিউজ, প্রতিফলন এবং সবার দেশ। 

উক্ত দাবির ফেসবুক পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে

ইন্সটাগ্রামে প্রচারিত দাবি দেখুন: এখানে

এক্সে প্রচারিত দাবি দেখুন: এখানে, এখানে

ইউটিউবে প্রচারিত দাবি দেখুন: এখানে, এখানে

টিকটকে প্রচারিত দাবি দেখুন: এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, খুলনা কোর্টে শিশু ধর্ষণকারীকে গুলি করে হত্যার দাবিটি ভুয়া। প্রকৃতপক্ষে, গতবছরের ৩০ নভেম্বরে খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের বাইরে দুজনকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। প্রচারিত ভিডিওটি মূলত এই ঘটনারই।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Shihab Uddin Rubel’ নামক ফেসবুক প্রোফাইলে গত বছরের ২৫ নভেম্বরে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়, যার সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যের মিল রয়েছে।

ভিডিওর ক্যাপশনে খুলনায় আদালত চত্বরে ২ জনকে গুলি করা হত্যার কথা উল্লেখ থাকলেও শিশু ধর্ষণকারীকে গুলির বিষয়ে কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে মাছরাঙা টেলিভিশনের ফেসবুক পেজে একই তারিখে আলোচিত বিষয়ে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিয়ে বের হওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রাজন ও হাসিব নামের দুই ব্যক্তি নিহত হন।

এছাড়া, আলোচিত বিষয়ে দেশীয় একাধিক সংবাদ মাধ্যমে (প্রথম আলো, যমুনা টেলিভিশন, যুগান্তর, কালবেলা, জাগো নিউজ) ঐসময়ে খবর প্রচার হয়। উক্ত প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণেও একই তথ্য জানা যায়।

অর্থাৎ, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সাথে শিশু ধর্ষণকারীর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে। ফলে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তাছাড়া, খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে এমন কোনো ঘটনার বিষয়ে দেশীয় সংবাদমাধ্যম কিংবা নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো তথ্যের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, পুরোনো ও ভিন্ন ঘটনার ভিডিওকে খুলনায় আদালত প্রাঙ্গণে ধর্ষণ মামলার দুই আসামিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: