অতি সম্প্রতি, “খুলনায় এনসিপি নেতার বাড়িতে জঙ্গি ট্রেনিং চলছে, ভয়াবহ বোমা বানানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল…আজ ৫ জঙ্গি ও এনসিপি নেতাকে আটক করেছে সেনাবাহিনী” শীর্ষক ক্যাপশনে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবির ফেসবুক ভিডিও দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে।
একই ভিডিও ইনস্টাগ্রামে দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটির সাথে কোনো এনসিপি নেতার সম্পর্ক নেই বরং ০২ নভেম্বর বগুড়ার একটি বাড়িতে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রচারিত ভিডিওকে উক্ত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে মূল ধারার গণমাধ্যম সময় টিভির ফেসবুক পেজে ০২ নভেম্বর রাতে প্রকাশিত একটি ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওটির মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

ভিডিওটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, হাতবোমা তৈরি করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছে কারিগর।
মূল ধারার সংবাদমাধ্যম এখন টিভির সূত্রে জানা যাচ্ছে, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার একটি বাড়িতে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণে আতাউর রহমান সেলিম নামের এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। ওই বাড়ি থেকে আরও ৫টি ককটেল উদ্ধার করেছে বোম ডিস্পোজাল ইউনিট। সেগুলো বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করার প্রস্তুতি চলছে। এটি মূলত সে ঘটনারই দৃশ্য। ঘটনাটি গত ০২ নভেম্বরের।
জাতীয় দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পুলিশ জানিয়েছে, ছোট ইটালী গ্রামের মুক্তার হোসেনের স্ত্রী নাসিমা মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাগারে রয়েছেন। ওই বাড়িতে মুক্তার হোসেন ও তাঁর প্রতিবন্ধী মা বসবাস করেন। মুক্তার হোসেনের বোনের স্বামী পার্শ্ববর্তী মাঝবাড়ি গ্রামের বাদশা মিয়া আন্তজেলা ডাকাত দলের সদস্য। তাঁরা কুমিল্লা থেকে আতাউর রহমানকে ডেকে এনে বাড়ির একটি ঘরে ককটেল বানাচ্ছিলেন। তিনটি ককটেল বানানোর পর আরেকটি বানানোর সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় লোকজন বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ওই বাড়িতে গেলে বাদশা মিয়া ও মুক্তার হোসেন পালিয়ে যান। তাঁরা আতাউর রহমানকে ডান হাত জখম অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে তাঁকে হাসপাতালে নেয়।
এসব প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে কোনো এনসিপির নেতার এই ঘটনার সাথে যোগসাজশ পাওয়া যায়নি৷
সুতরাং, খুলনায় এনসিপি নেতার বাড়িতে জঙ্গি ট্রেনিং দেওয়ার দাবিটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Somoy Tv: Facebook Video


