দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শেষ জেলা সাতক্ষীরা। সাতক্ষীরাকে রেললাইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সম্প্রতি জাইকা ( জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা) থেকে ঋণ সহায়তার মাধ্যমে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘কলারোয়া রেলওয়ে স্টেশন’ ক্যাপশনে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে প্রচারিত ফেসবুকে পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবিটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে জাতীয় গণমাধ্যম বা কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমন কোনো ছবির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
এছাড়া, ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে একাধিক অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। যেমন, রেল ইঞ্জিনের সামনে দুইটি লুকিং গ্লাস, সাইন বোর্ডে লেখার ফন্ট, মানুষের অস্বাভাবিক অঙ্গভঙ্গি ইত্যাদি। এসব অসঙ্গতি সাধারণত এআই নির্মিত কনটেন্টে পরিলক্ষিত হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত হতে হাইভ ডিটেক্ট নামের এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্মে ভিডিওটি যাচাই করলে জানা যায়, এটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

অর্থাৎ, ছবিটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি।
উল্লেখ্য, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসতে যাচ্ছে সাতক্ষীরা। যশোরের নাভারন থেকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর পর্যন্ত প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হবে। মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) ও স্টেশন নির্ধারণসহ রেলওয়ের প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। যশোরের নাভারন থেকে সাতক্ষীরার ভোমরা পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সিংহভাগ অর্থ জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) থেকে ঋণ সহায়তার মাধ্যমে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ৬৫ কিলোমিটার রেলপথে নাভারন, কলারোয়া, মাধবকাঠি, সাতক্ষীরা ও ভোমরা স্থলবন্দরসহ মোট ৬টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে।
সুতরাং, সাতক্ষীরা কলারোয়া রেলওয়ে স্টেশন দাবিতে প্রচারিত ছবিটি এআই প্রযুক্তির সহায়তায় নির্মিত।
তথ্যসূত্র
- Hive detect
- Independent TV- নতুন রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে সাতক্ষীরা
- Rumor Scanner’s analaysis


