মুসলিম হয়েও যারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে না, তারা কাফের বলে মন্তব্য করেননি কৃষ্ণ নন্দী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা -১ আসনে সনাতন ধর্মালম্বী কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি প্রচার করা হয়েছে, কৃষ্ণ নন্দী বলেছেন, ‘মুসলিম হয়েও যারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে না, তারা কাফের’।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া অবধি আলোচিত দাবিতে প্রচারিত উপরোল্লিখিত পোস্টগুলোতে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৮ হাজারেরও অধিক পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এরূপ দাবিতে এক্সে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, কৃষ্ণ নন্দী ‘মুসলিম হয়েও যারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে না, তারা কাফের’ শীর্ষক মন্তব্যটি করেননি। প্রকৃতপক্ষে, কোনোরকম নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই কৃষ্ণ নন্দীর মন্তব্য দাবিতে আলোচিত ভুয়া এই মন্তব্যটি প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করেও মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে কৃষ্ণ নন্দী এরূপ কোনো মন্তব্য করে থাকলে তা মূলধারার গণমাধ্যমে প্রচার করা হতো।

সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন বিষয়ে কৃষ্ণ নন্দীর মন্তব্যের বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, কৃষ্ণ নন্দী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে গত ২৯ ডিসেম্বর বলেন ‘ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন, সন্ত্রাস-চাঁদামুক্ত দেশ গঠন করতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে আমাকে (কৃষ্ণ নন্দী) ভোট দিবেন।’ এর আগে গত ১১ ডিসেম্বরে খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষ্ণ নন্দী বলেন, ‘আমাকে এমপি প্রার্থী ঘোষণার মাধ্যমে আরও স্পষ্টভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে প্রমাণিত হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি অসাম্প্রদায়িক দল।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই দলটির কাছে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, উপজাতি—কোনো ভেদাভেদ নেই। সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমাকে প্রার্থী করায় সারা দেশে হিন্দুদের দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।’

সুতরাং, কৃষ্ণ নন্দী ‘মুসলিম হয়েও যারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে না, তারা কাফের’ শীর্ষক মন্তব্য করেছেন বলে প্রচারিত দাবিটি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: