লক্ষ্মীপুর হত্যাকাণ্ডে বেঁচে যাওয়া সিফাতের আর্তনাদ দাবিতে ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার 

গত ২৫ জুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা-তিন মেয়েসহ চারজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় মা-বোনদের হারিয়ে পরিবারটির একমাত্র সদস্য হিসেবে বেঁচে আছে সিফাত নামক এক তরুণ। মা-বোনদের হারানোর শোকে সিফাতের কান্না-আহাজারির দৃশ্য দাবিতে একটি ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করা হয়েছে। 

উক্ত দাবিতে গণমাধ্যমে প্রচারিত পোস্ট দেখুন প্রথম আলো, নয়া দিগন্ত, আগামীর সময়, জাগোনিউজ২৪, এটিএন নিউজ

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ),

উক্ত দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)৷

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওর সাথে আলোচিত দাবিটির কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে, অন্তত গত ২০ জুন থেকে ইন্টারনেটে বিদ্যমান একটি ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে৷

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে গত ২১ জুন ‘News today 26’ নামক ফেসবুক পেজে আলোচিত ভিডিওটির অনুরূপ একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ভিডিওর ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, ‘বড় বোনের জন্য ছোট ভাইয়ের বুকফাটা আহা’জারি’ শুক্রবার বিকেলে বাপের বাড়ি থেকে বড় বোনকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে রেখে আসে। শনিবার দুপুরে বোনের মৃ’ত্যুর সংবাদ। ছোট ভাইয়ের আহা’জারি। ঘটনাটি পেকুয়া সদরের মুরার পাড়া এলাকার, সদর ইউপির গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিনের মেয়ে।’

পরবর্তীতে, ‘চকরিয়া- মাতামুহুরী- খবর’ ফেসবুক প্রোফাইলে গত ২০ জুন প্রকাশিত পোস্টেও ভিডিওটি কক্সবাজারের পেকুয়ার ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়।

এসব তথ্যের সূত্র ধরে খবরের কাগজ এর ওয়েবসাইটে গত ২১ জুন ‘পেকুয়ায় শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ জুন কক্সবাজার জেলার পেকুয়ায় কাজল রেখা (২২) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, তাকে হত্যার পর মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছেন। কাজল রেখা পেকুয়া পৌরসভার উত্তর গোয়াখালী এলাকার গ্রামপুলিশ জসিম উদ্দিনের মেয়ে। উক্ত প্রতিবেদনের তথ্যের সাথে ফেসবুকে পাওয়া ভিডিওটির বর্ণনার মিল রয়েছে।

এছাড়া, গণমাধ্যম থেকে (, ) লক্ষ্মীপুরের ঘটনায় বেঁচে যাওয়া সিফাতের ছবির সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওর কিশোরের চেহারার মিল পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, লক্ষ্মীপুর হত্যাকাণ্ডে বেঁচে যাওয়া সিফাতের আর্তনাদের দৃশ্য দাবিতে কক্সবাজারের ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: