গতকাল ৩ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে প্রস্তুত ভোটের সিলসহ সোহেল রানা নামের এক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি ছড়িয়ে পড়ে যে, আটক সোহেল রানা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নেতা এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কর্মী।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে।
একই দাবিতে ইন্সটাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরে জাল সিলসহ আটক সোহেল রানা বিএনপির কর্মী নন। বরং তার ফেসবুক আইডিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পোস্ট পাওয়া যায়। এছাড়া, একই ঘটনায় অন্য এক আসামি শরীফ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে গতকাল (৩ ফেব্রুয়ারি) বণিকবার্তায় ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এতে উল্লেখ করা হয়, লক্ষ্মীপুর শহরের পুরাতন আদালত রোডের ‘মারইয়াম প্রেস’ থেকে সোহেল রানাকে আটক করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ভোটে ব্যবহৃত ছয়টি অবৈধ সিল উদ্ধার করে। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মাহমুদ নাহিদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে সিলসহ একটি মোবাইল ফোন ও একটি কম্পিউটার জব্দ করে সোহেলকে থানায় নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা জানান, অর্ডার পেয়ে তিনি সিলগুলো তৈরি করেছিলেন; তবে কারা এই অর্ডার দিয়েছিল, সে সময় তিনি তা প্রকাশ করেননি।
প্রতিবেদনে যুক্ত দোকানের ছবিতে ‘মারইয়াম প্রিন্টার্স’ নামের দোকানের ব্যানার এবং একটি ফোন নম্বর দেখা যায়। এই সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে ‘Mariyam Printers’ নামক একটি ফেসবুক প্রোফাইলের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রোফাইলটির কভার ফটোতে বণিকবার্তার প্রতিবেদনে যুক্ত দোকানের সামনের ব্যানারের একই ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
আরও অনুসন্ধানে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক প্রোফাইলটির নাম আগে ছিল ‘Sohel Rana’। উক্ত প্রোফাইল থেকে সর্বশেষ গত ৯ ডিসেম্বর একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়। মূলত গত ২৬ নভেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পেজ থেকে প্রবাসীদের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ৯ ডিসেম্বর এই প্রোফাইল থেকে শেয়ার করা হয়।
Sohel Rana Claim
by Rumor Scanner
একই ঘটনায় ৪ ফেব্রুয়ারি একাত্তর টিভির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও পুরাতন আদালত সড়কের মারইয়াম প্রিন্টার্সের মালিক সোহেল রানা এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি সৌরভ হোসেন শরীফের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, জামায়াত নেতা সৌরভ হোসেন শরীফের নির্দেশেই সিলগুলো তৈরি করা হচ্ছিল। সোহেলের দেওয়া তথ্য, কথোপকথন ও ভয়েস মেসেজের ভিত্তিতে সৌরভ হোসেন শরীফকে মামলার আসামি করা হয়। এ ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াত পাল্টাপাল্টি সাংবাদিক সম্মেলন করে। বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সোহেলকে জামায়াতের কর্মী বলে দাবি করেন। তবে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম বলেন, সোহেল জামায়াতের কেউ নন। জেলা জামায়াতের আমির এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া জানান, ঘটনার পরপরই সৌরভ হোসেন শরীফকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সময় টিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিল উদ্ধারের ঘটনায় দুজনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়েছে। আটক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, পলাতক আসামি শরীফ হোসেন সৌরভকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
সুতরাং, লক্ষ্মীপুরে ভোটের সিলসহ গ্রেপ্তার হওয়া ব্যবসায়ী সোহেল রানা বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কর্মী বলে প্রচারিত দাবিটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Rumor Scanner’s analysis.
- Mariyam Printers: Facebook Post
- Bonik Barta: লক্ষ্মীপুরে ভোটের ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী আটক
- Ekattor: জামায়াত নেতার নির্দেশে ভোটের সিল তৈরি, থানায় মামলা, দল থেকে বহিষ্কার
- Somoy TV: ব্যালটের সিল বানাতে দিয়েছিলেন জামায়াত নেতা, আদালতে স্বীকারোক্তি


