গত ১৮ ডিসেম্বর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–কে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ তুলে ময়মনসিংহের পাইওনিয়ার্স নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী দিপু চন্দ্র দাসকে কারখানা থেকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। একপর্যায়ে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকের একটি গাছে বিবস্ত্র করে ঝুলিয়ে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে এক ব্যক্তিকে পুলিশ কর্তৃক ধরে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, এটি দীপু দাসের শেষ ভিডিও।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকের ভিডিও দেখুন এখানে, এখানে।
একই দাবিতে ইনস্টাগ্রামের ভিডিও দেখুন এখানে।
একই দাবির এক্স পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে।
একই দাবির ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখুন টাইমস অফ ইন্ডিয়া, নিউজ১৮ বাংলা (ইউটিউব), রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড (ইউটিউব), আজতক বাংলা (ইউটিউব), ফ্রি প্রেস জার্নাল (ইউটিউব), সিএনএন নিউজ১৮ (ইউটিউব), আর প্লাস নিউজ (ইউটিউব)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওর সাথে দীপু দাসের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে, গত নভেম্বরে শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকায় ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থীকে পুলিশ কর্তৃক ধরে নিয়ে যাওয়ার পুরোনো ভিডিওকে উক্ত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম ভোরের কাগজ এর ফেসবুক পেজে গত ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত একটি ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওর নারীর মিল পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, পুলিশ যাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে তিনি ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী।

ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, উক্ত শিক্ষার্থীকে নিজ মুখে বলতে শোনা যায়, “ভাই, আমি ঢাকা কলেজের।” তার পরনের জার্সির সামনে ঢাকা কলেজের লোগো এবং ২০২২-২৩ সেশন লেখা দেখা যায় এবং পেছনে Momin নাম লেখা দেখা যায়।

ভিডিওতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলমকে দেখা যায়। ১৮ নভেম্বরের কালবেলার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভাঙার চেষ্টা করা হয় ১৭ নভেম্বর। সেদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রাক্কালে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ৩২ নম্বর সড়ক। দিনভর পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে একদল বিক্ষোভকারীর। রাত ৯টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ জনতা ৩২ নম্বর সংলগ্ন মিরপুর রোড অবরোধ করে রাখেন।
মিরপুর রোড সড়কের সূত্র ধরে গুগল ম্যাপে একই স্থান খুঁজে পাওয়া যায় যেখানে ম্যাপে এবং আলোচিত ভিডিওতে একই রংয়ের বাসের দেখা মেলে। এটি ঠিকানা পরিবহনের একটি বাস, যা ঢাকার মধ্যেই টাউন সার্ভিস হিসেবে চলাচল করে।

অর্থাৎ, ভিডিওটি যে ঢাকার এবং পুরোনো ও ভিন্ন ঘটনার তা নিশ্চিত।
সুতরাং, মৃত্যুর আগে দীপু দাসের শেষ ভিডিও দাবিতে ভিন্ন ব্যক্তির ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Bhorer Kagoj: Facebook Video
হালনাগাদ
০৪ জানুয়ারি, ২০২৬: এই প্রতিবেদন প্রকাশ পরবর্তী সময়ে ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমে একই দাবি প্রচারের বিষয়টি নজরে আসায় সেসব প্রতিবেদনকে দাবি হিসেবে যুক্ত করা হলো।


