অনশনে লোহাগাড়ার জুলাই যোদ্ধার মৃত্যুর ভুয়া দাবি প্রচার 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে ৮ এপ্রিল থেকে তিন শিক্ষার্থী অনশন শুরু করেন। পরে ১১ এপ্রিল বিকেলে প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর একাধিক শহীদ পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে তারা অনশন ভাঙেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যক্তির ছবি দিয়ে দাবি করা হয়, অনশন করতে গিয়ে লোহাগাড়ার এক জুলাই যোদ্ধা মারা গেছেন।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, দাবিটি সঠিক নয়। অনশনে কারও মৃত্যু হয়নি। বরং চট্টগ্রামে হামলায় আহত এক জুলাই যোদ্ধার ছবি ব্যবহার করে এই দাবি ছড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত ছবিতে থাকা ব্যক্তি জুলাই আন্দোলনে সম্মুখসারীর যোদ্ধা চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের ছাত্র হোসাইন মোহাম্মদ তামিম। পরবর্তীতে তার ফেসবুক প্রোফাইলে গত ১০ এপ্রিল প্রকাশিত দুইটি ছবি দিয়ে তৈরি একটি কোলাজ পোস্ট পাওয়া যায়। ওই কোলাজের নিচের ছবির সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিটির মিল রয়েছে।

ওই কোলাজে দাবি করা হয়, নিচের ছবিটি গত ৫ এপ্রিল চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকায় তার ওপর ছাত্রদলের হামলার পরের দৃশ্য।

এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে নয়া দিগন্তের ওয়েবসাইটে গত ৫ এপ্রিল প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের ছাত্র ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারীর কর্মী হোসাইন মোহাম্মদ তামিম প্রকাশ (তামিম মির্জা)-কে ওই দিন বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর নতুন ব্রিজ এলাকায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা হামলা করে। হামলায় তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। ঘটনার পর তিনি ফেসবুক লাইভে এসে জানান, তাকে খুব বাজেভাবে মারধর করা হয়েছে এবং হামলাকারীরা ছাত্রদল বা ছাত্রলীগের হতে পারে।

প্রতিবেদনে যুক্ত ছবির সঙ্গেও আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির মিল রয়েছে।

এছাড়া, তামিমের মৃত্যুর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাকে ফেসবুকে নিয়মিত সক্রিয় থাকতে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি, আলোচিত অনশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও মৃত্যুর তথ্যও মেলেনি।

সুতরাং, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনশনে লোহাগাড়ার এক জুলাই যোদ্ধার মৃত্যু হওয়ার দাবিটি মিথ্যা

তথ্যসূত্র

Share: