ছাত্রলীগ নেতাকে প্রকাশ্যে জবাই দাবিতে মাদারীপুরে চুরির অভিযোগে মারধরের ভিডিও প্রচার

সম্প্রতি রাজধানীতে ছাত্রলীগের এক নেতাকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে জবাই করেছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

একই দাবিতে ইন্সটাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটি ঢাকায় কোনো ছাত্রলীগ নেতাকে প্রকাশ্যে জবাইয়ের নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি মাদারীপুরে চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে মারধরের ভিডিও।

বিষয়টি অনুসন্ধান করে বিশ্বস্ত কোনো সূত্র বা গণমাধ্যমে রাজধানী ঢাকায় ছাত্রলীগের কোনো নেতাকে প্রকাশ্যে জবাই করার ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, একটি পোস্টে ‘Mizanur Rahman’ নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারীর মন্তব্য রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তি চুরির সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছিল। ঘটনার সময় তিনি নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং শুরু থেকেই তার কাছে ভিডিও রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি একাধিকবার চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে। যিনি মারধর করেছেন এবং তার বাবা দুজনেই বাজারে দুটি দোকান চালান। অভিযুক্ত ব্যক্তি দুই দোকান থেকেই চুরি করেছে। একবার ছেলের দোকানে চুরি করার সময় ছেড়ে দেওয়া হলেও ঘটনার দিন দোকানদার মাহফিলে গিয়ে পকেটে হাত দিয়ে মোবাইল না পেয়ে দ্রুত বাজারে ফিরে আসেন। দোকান খুলেই দেখতে পান, দোকানের পেছনের টিনের বেড়া কেটে ভেতরে ঢুকে বসে আছে ওই ব্যক্তি। এরপরই মারধরের ঘটনা ঘটে। তখন বাজারে আরও কয়েকশ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে অভিযুক্তের বাবা এসে মুরুব্বিদের মাধ্যমে তাকে ছাড়িয়ে নেন।

এ বিষয়ে রিউমর স্ক্যানার মাদারীপুরের বাসিন্দা মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তিনি জানান, গত ১৫ নভেম্বর রাতে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঠালবাড়ী এলাকার চরচান্দ্রা হাটে ঘটনাটি ঘটে।

মিজানুর রহমান ওই দিনের ঘটনায় তার মোবাইলে ধারণ করা আরও দুটি ভিডিও রিউমর স্ক্যানারকে সরবরাহ করেন। ভিডিওগুলোতে আলোচিত ভিডিওতে মারধরকারী ব্যক্তি ও মারধরের শিকার ব্যক্তির সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশের সঙ্গেও সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। ভিডিওগুলোর কথোপকথন পর্যবেক্ষণ করেও এটি চুরির ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

এছাড়া মিজানুর ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ধারণ করে পাঠান, যার সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর স্থানের মিল দেখা যায়।

সুতরাং, মাদারীপুরে চুরির ঘটনার একটি ভিডিওকে রাজধানীতে ছাত্রলীগ নেতাকে প্রকাশ্যে জবাইয়ের দাবি করে প্রচার করা হয়েছে, যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

  • Rumor Scanner’s analysis.
  • Different video footage from same incident
  • Mizanur Rahman: Facebook Profile 
Share: