বাংলাদেশে মাদ্রাসা ভবন ধসে ৩৬ নিহতের ভুয়া দাবি, প্রচারিত ছবিটি ইন্দোনেশিয়ার পুরোনো ঘটনার

সম্প্রতি, নামাজ চলাকালীন সময়ে মাদ্রাসার ভবন ধসে পড়ে ৩৬ জন নিহত হয়েছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি প্রচার করা হয়েছে। প্রচারিত পোস্টটিতে আরও দাবি করা হয়, এ ঘটনায় আহত আরও ৭৪ জনকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে নেওয়া হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
একই দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাংলাদেশে সম্প্রতি মাদ্রাসা ভবন ধসে ৩৬ জন নিহত হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিটিও সাম্প্রতিক বা বাংলাদেশের নয়। প্রকৃতপক্ষে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার একটি ইসলামিক আবাসিক স্কুল (মাদ্রাসা) ভবন ধসের ঘটনার দৃশ্যকে ভিন্ন দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে গণমাধ্যম কিংবা নির্ভরযোগ্য সূত্রে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কোনো মাদ্রাসার ভবন ধসের এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে আলোচিত পোস্টটিতে প্রাপ্ত ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এতে থাকা ভিডিওর একটি অংশের সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিটির হুবহু মিল রয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিবেদন থেকে জানা যায় ভিডিওটি সেদিন ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভার সিদোরাজো শহরে অবস্থিত আল-খোজিনি ইসলামিক আবাসিক স্কুলের ভবন ধসের ঘটনার।
একই বিষয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভবন নির্মাণকাজ চলাকালে দুর্বল ভিত্তির কারণে বিকেলের নামাজের সময় ভবনটি ধসে পড়ে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার বরাতে জানানো হয়, এ ঘটনায় ৩৬ জন শিক্ষার্থী নিহত হন।
একই ঘটনায় সেসময় অন্যান্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ, আলোচিত ছবিটি বাংলাদেশের নয়।
সুতরাং, বাংলাদেশে মাদ্রাসা ভবন ধসে ৩৬ জন নিহত হওয়ার দাবিতে ইন্দোনেশিয়ার পুরোনো ঘটনার ছবি প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- The Guardian Website: Rescuers race to find survivors after school collapse in Indonesia – video
- Reuters: Indonesia school collapse death toll rises to 36, search for bodies continues
- Rumor Scanner’s Analysis

