জামায়াতকে নিয়ে মাহফুজ আনামের কলামের বাক্য বিকৃত করে প্রচার

সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিয়ে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনামের নামে একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করে কিছু অনলাইন পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। এতে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, “দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম পরিচয়ের সবচেয়ে খাঁটি প্রতিনিধি জামায়াত।”

উক্ত দাবিতে অনলাইন পোর্টালের প্রতিবেদন দেখুন: বিডি টুডে

একই দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, এটি মাহফুজ আনামের সরাসরি কোনো মন্তব্য নয়। প্রকৃতপক্ষে, একটি উপসম্পাদকীয়তে করা তার বিশ্লেষণের অংশ বিকৃত করে মন্তব্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে বিডি টুডের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিবেদনের শিরোনাম এবং পোর্টালটির ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডে মাহফুজ আনামের নামে ‘দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম পরিচয়ের সবচেয়ে খাঁটি প্রতিনিধি জামায়াত’ শীর্ষক মন্তব্যটি উদ্ধৃত করা হয়। তবে প্রতিবেদনের বিস্তারিত অংশে লেখা হয়েছে, ‘দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মধ্যে মুসলিম পরিচয়ের চেতনা আরও বলিষ্ঠভাবে উন্মেষ হচ্ছে এবং সেই পরিচয়ের সবচেয়ে খাঁটি প্রতিনিধি হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের তুলে ধরার চেষ্টা করছে।’

প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘পলিটিশিয়ানস মাস্ট বি ওপেন টু একসেপ্টিং ইলেকটোরাল ডিফিটস’ শিরোনামে দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি উপসম্পাদকীয়তে মাহফুজ আনাম এসব কথা লিখেছেন। লেখাটি শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পত্রিকাটির ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত হয়।

এই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে ৬ ফেব্রুয়ারি দ্য ডেইলি স্টারের ওয়েবসাইটে সংশ্লিষ্ট উপসম্পাদকীয়টি পাওয়া যায়। সেখানে আলোচ্য অংশে তিনি লিখেছেন,

“However, in spite of its past, Jamaat today is a significant presence in the upcoming election. Opinion polls show that it is likely to emerge as the second biggest party in the next parliament. How did it navigate through such a shameful legacy and emerge with such a strength? The most important reason is its use of the rising consciousness of Muslim identity among the majority of Bangladeshis, and Jamaat positioning itself to be the most authentic representative of that.”

একই উপসম্পাদকীয়র বাংলা সংস্করণে ওই অংশের অনুবাদে লেখা হয়েছে, “এমন অতীত নিয়েও আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী হয়ে উঠেছে এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। জনমত জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী সংসদে তারা দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। এমন লজ্জাজনক অতীত নিয়েও কীভাবে তারা এতটা শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাল? এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাঝে মুসলিম পরিচয়ের চেতনা আরও বলিষ্ঠভাবে উন্মেষ হচ্ছে এবং সেই পরিচয়ের সবচেয়ে খাঁটি প্রতিনিধি হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের তুলে ধরার চেষ্টা করছে।” 

অর্থাৎ, মাহফুজ আনাম সরাসরি জামায়াতকে মুসলিম পরিচয়ের সবচেয়ে খাঁটি প্রতিনিধি বলেননি। তার লেখায় বলা হয়েছে, দেশে মুসলিম পরিচয়ের চেতনা বাড়ছে এবং সেই বাস্তবতাকে কাজে লাগিয়ে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের ওই পরিচয়ের সবচেয়ে খাঁটি প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। কিন্তু ‘চেষ্টা’ করার বিষয়টি বাদ দিয়ে কেবল ‘খাঁটি প্রতিনিধি’ হিসেবে উদ্ধৃত করায় বক্তব্যের অর্থ বিকৃত হয়েছে।

এছাড়া, ডেইলি স্টারের ফেসবুক পেজে গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি পোস্টেও জানানো হয়েছে যে, মাহফুজ আনাম এমন কোনো মন্তব্য করেননি।

সুতরাং, জামায়াতের বিষয়ে মাহফুজ আনামের নামে প্রচারিত এই উদ্ধৃতিটি বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: