বিএনপি নেতাদের ব্যাংক হিসাব তদন্ত প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমানের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার 

সম্প্রতি, দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমানকে উদ্ধৃত করে ‘বিএনপি লাফালাফি বন্ধ হয়ে যাবে! সারা বাংলাদেশে বিএনপির সিনিয়ার নেতাসহ সকল নেতাকর্মীর এক বছরের লেনদেন ও ব্যাংক হিসাব তদন্ত করা হোক! দেখবেন বিএনপির লাফালাফি বন্ধ হয়ে যাবে! ১০০% গ্যারান্টি দিলাম!’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বিএনপির সিনিয়র নেতাসহ সকল নেতাকর্মীর এক বছরের লেনদেন ও ব্যাংক হিসাব তদন্ত করা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি মাহমুদুর রহমান। প্রকৃতপক্ষে, কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই উক্ত মন্তব্যটি তার নামে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর ওয়েবসাইটে গত ১৩ আগস্ট ‘গণঅভ্যুত্থান ছাড়া ফ্যাসিবাদ সরানো যায় না: মাহমুদুর রহমান’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির মিল রয়েছে। ছবির ক্যাপশন থেকে জানা এটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার ছবি।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান ছাড়া ফ্যাসিবাদ সরানো সম্ভব নয়। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের তরুণরা দেশকে নতুনভাবে পথ দেখিয়েছে। বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে একটি ফ্যাসিস্ট সরকার থাকার পরও তরুণ প্রজন্মের অকুতোভয় মনোবল সত্যিই চমকপ্রদ। এই প্রজন্মের আবেগ ও মননকে সমাজকে বোঝার জন্য গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ফ্যাসিবাদ নিজে নিজে তৈরি হয় না। বিগত শাসনামলে ব্যবসায়ী, আমলা, তথাকথিত বুদ্ধিজীবী ও কিছু সাংবাদিক ফ্যাসিবাদের পক্ষে কাজ করেছেন এবং তার সমর্থনে ন্যারেটিভ তৈরি করেছেন।’

ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তার ভিন্ন দুটি পুরোনো ছবি যুক্ত করে প্রচার করা হয়েছে।

পরবর্তীতে এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলেও আলোচিত দাবির সপক্ষে মূলধারার গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণ করলে তাতে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, প্রচারিত পোস্টে নানা বানানগত ভুল দেখা যায় যেমন: ‘সিনিয়র’কে ‘সিনিয়ার’ লেখা হয়েছে। এছাড়াও বিরামগত ত্রুটিও লক্ষ্য করা যায় যা থেকে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রচারিত পোস্টটি কোনো মূলধারার গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়নি।

পাশাপাশি, মাহমুদুর রহমানের সম্পাদনা করা পত্রিকা ‘দৈনিক আমার দেশ’ এর ফেসবুক পেজওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণেও আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে মাহমুদুর রহমান এরূপ কোনো মন্তব্য করে থাকলে তা উপরোল্লিখিত যেকোনো সূত্রে পাওয়া যেত৷

সুতরাং, বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাংক হিসেব তদন্ত প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমানের মন্তব্য দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: