মমতা ক্ষমতায় ফিরলে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরাও কলকাতা ফিরবে- এমন বক্তব্য সংবলিত ভিডিওটি স্ক্রিপ্টেড

সম্প্রতি, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরলে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা পুনরায় ভারতে প্রবেশ করবে এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচারিত হতে দেখে রিউমর স্ক্যানার। ভিডিওটিতে একজন ব্যক্তিকে মাক্রোফোন হাতে দুজন নারীর সাথে কথা বলতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখতে পাওয়া একজন নারী বলেন, “মমতা দিদি যেদিন ক্ষমতায় ফিরবেন, সেদিন আমরাও বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় ফিরে আসব” (অনুদিত)।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটিতে থাকা নারীরা কোনো বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নন। প্রকৃতপক্ষে, ভারতের বিহারে ধারণ করা একটি স্ক্রিপ্টেড ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ভিডিওতে থাকা নারীদের বাংলাদেশি দাবি করা হলেও তারা সাবলীলভাবে বিহারী হিন্দিতে কথা বলছেন। যা কিছুটা অস্বাভাবিক।

পরবর্তীতে ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে TAH TAK নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে একই নারীদের ভিন্ন আরেকটি ভিডিও প্রচারিত হতে দেখা যায়। ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত নারীদের আশেপাশে অনুপ্রবেশ-সংক্রান্ত পরিস্থিতির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।

এছাড়াও TAH TAK নামের একটি ফেসবুক পেজেও একই ধরনের একাধিক ভিডিওর সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে মাইক্রোফোন হাতে থাকা একই যুবককে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনভিত্তিক ভিডিও তৈরি করে প্রচার করতে দেখা যায়।

এবিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ভিডিওটি নিয়ে ভারতীয় তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান আজতকেও কাজ করতে দেখা যায়। আজতকের প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভারতে বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত আলোচিত এই ভিডিওটি প্রচারকারী চন্দন কাশ্যপের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ভিডিওটি সীমান্তবর্তী কোনো এলাকায় ধারণ করা হয়নি। ভিডিওতে থাকা নারীরা বাংলাদেশি নন; তারা স্থানীয় বাসিন্দা। তার ভাষ্যমতে, ভিডিওটি ভারতের বিহারের মুজফফরপুরে ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমান ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিনোদনধর্মী ও ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট হিসেবে ভিডিওটি নির্মাণ করা হয়েছিল এবং এটি সম্পূর্ণ স্ক্রিপ্টেড।

সুতরাং, ভারতীয় একটি স্ক্রিপ্টেড ভিডিওকে ভারতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বক্তব্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

  • TAH TAK YouTube Channel Video
  • TAH TAK Facebook Page
  • Rumor Scanner’s Analysis
Share: