সম্প্রতি, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বক্তব্যের ভিডিও দাবিতে দুইটি ভিডিও অনলাইনে প্রচার করা হয়েছে। প্রচারিত একটি ভিডিওতে মমতা ব্যানার্জী সদৃশ এক নারীকে বলতে শোনা যায়, “শেখ হাসিনার হাতেই বাংলাদেশ নিরাপদ ছিল। আমরা দুই বছরে তাই দেখলাম বাংলাদেশের অবস্থা অনেক খারাপ এখন। আমাদের এখনই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যেতে হবে।”
টিকটকে ভিডিওটি দেখুন এখানে।
এই প্রতিবেদনটি লেখা অবধি ১০ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের এই ভিডিওটি ৮১ হাজারেরও অধিক বার দেখা হয়েছে এবং ৯ হাজারেরও অধিক পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওতে লাইক দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, প্রচারিত আরেকটি ভিডিওতে মমতা ব্যানার্জী সদৃশ এক নারীকে বলতে শোনা যায়, “আমি পরাজিত হয়েছি, কিন্তু শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশ যেতে হবে। আমিও সাথে যাবো।”
টিকটকে ভিডিওটি দেখুন এখানে।
এই প্রতিবেদনটি লেখা অবধি ১০ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের এই ভিডিওটি ২৮ হাজারেরও অধিক বার দেখা হয়েছে এবং ৩ হাজারেরও অধিক পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওতে লাইক দেওয়া হয়েছে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, শেখ হাসিনার পক্ষে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বক্তব্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওগুলো আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে মমতা ব্যানার্জীর পুরোনো ছবি ব্যবহার করে এই ডিপফেক ভিডিওগুলো তৈরি করা হয়েছে।
প্রচারিত দাবিগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে ভিডিওগুলোর বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দেশি বা ভারতীয় কোনো মূলধারার গণমাধ্যমেও আলোচিত ভিডিওগুলোর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে, মমতা ব্যানার্জী এরূপ কোনো মন্তব্য করে থাকলে তা মূলধারার গণমাধ্যমে প্রচার করা হতো।
পাশপাাশি, ভিডিওগুলো সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করলে কিছু অসংগতি নজরে আসে। কথা বলার সময় উক্ত নারীর মুখের নড়াচড়ার সাথে শব্দচয়নের গরমিল বা রোবোটিক অবস্থা লক্ষ্য করা যায়৷ এছাড়াও, শব্দ উচ্চারণে খানিকটা অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভিডিওর ক্ষেত্রে এগুলো সাধারণ অসংগতি।
ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি কিনা তা জানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল হাইভ ডিটেক্ট এ যাচাই করলে ভিডিও দুইটির অডিও এআই তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৭ শতাংশেরও অধিক দেখা যায়।
পরবর্তী অনুসন্ধানে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিলে ‘রাজনাথকে পাল্টা মমতার, ‘মুখ খোলাবেন না’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ছবিরও সংযুক্তি পাওয়া যায়। উক্ত ছবিতে মমতা ব্যানার্জীর পোশাক, অঙ্গভঙ্গি এবং ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে আলোচিত ভিডিওতে থাকা নারীর পোশাক, অঙ্গভঙ্গি ও ব্যাকগ্রাউন্ডের মিল পাওয়া যায়।

অর্থাৎ, মমতা ব্যানার্জীর পুরোনো ছবি দিয়ে ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ভুয়া ভিডিওগুলো তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং, শেখ হাসিনার পক্ষে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বক্তব্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওগুলো প্রকৃতপক্ষে ডিপফেক প্রযুক্তিতে তৈরি।
তথ্যসূত্র
- AI Analysis
- Anandabazar Patrika – রাজনাথকে পাল্টা মমতার, ‘মুখ খোলাবেন না’


