কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হননি মেসুত ওজিল

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ এসেছিলেন জার্মানির জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার মেসুত ওজিল। পরবর্তীতে ১৯ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে যান তিনি। সেখান থেকে ফেরার পথে মেসুত ওজিল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন দাবিতে একটি দাবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। 

ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির থেকে ফেরার পথে মেসুত ওজিল দুর্ঘটনার শিকার হননি বরং, তার সাথে থাকা গাড়ি বহরের একটি গাড়ির সাথে ধাক্কা খায় মোটরচালিত অটোরিকশা।

অনুসন্ধানে ঢাকা পোস্টের ওয়েবসাইটে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি “রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে ওজিলের গাড়িবহর” শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭ টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়া কুতুপালং এলাকায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে জার্মানির সাবেক ফুটবল তারকা মেসুত ওজিল ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টের পুত্র নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ানকে বহনকারী গাড়ির বহর। এ ঘটনায় ওজিল কিংবা প্রতিনিধি দলের কেউ আহত না হলেও বহরে থাকা একটি গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়া মোটরচালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এর চালক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

একই তারিখে টাইমস অব বাংলাদেশের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উখিয়া শাহপরী দ্বীপ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ফেরার পথে ফুটবলার মেসুত ওজিল ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টের পুত্র নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ানের গাড়িবহরে ভিআইপি প্রোটোকল ভেঙে হঠাৎ একটি অটোরিকশা ঢুকে পড়ে। এসময় বহরের একটি গাড়ির সঙ্গে অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়। অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে।’

একই তথ্যে সংবাদ প্রকাশ করেছে– যমুনা টিভি, ডেইলি স্টার, প্রথম আলো

অর্থাৎ, মেসুত ওজিল নয় বরং, তার গাড়ি বহরে থাকা একটি গাড়ির সাথে অটোরিকশার ধাক্কা লাগে।

সুতরাং, কক্সবাজার রোহিঙ্গা শিবির থেকে ফেরার পথে মেসুত ওজিল দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার দাবিটি বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: