মেক্সিকোর শীর্ষ সন্ত্রাসীর মৃত্যুর পর সৃষ্ট সহিংসতার দৃশ্য ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের দাবিতে প্রচার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আতঙ্কিত হয়ে মানুষদের দৌড়াদৌড়ি ও অগ্নিকাণ্ডের কয়েকটি দৃশ্যের সমন্বয়ে তৈরি একটি ভিডিও প্রচার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘আলহামদুলিল্লাহ 🇮🇷 মনের শান্তি, চোখের শান্তি’। উল্লেখ্য, ক্যাপশনে থাকা পতাকাটি ইরানের।

অর্থাৎ, দাবি করা হয়েছে প্রচারিত ভিডিওতে প্রদর্শিত দৃশ্য চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের ঘটনার

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওতে প্রদর্শিত দৃশ্য চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে গত ফেব্রুয়ারিতে মেক্সিকোর মাদক সম্রাট নেমেসিও ওসেগুয়েরা ওরফে ‘এল মেনচো’র মৃত্যুর পর কার্টেল সদস্যদের পাল্টা হামলায় মেক্সিকো জুড়ে বিরাজ করা সংঘাত ও বিশৃঙ্খলার দৃশ্যকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর শুরুতে প্রদর্শিত দৃশ্যের বিষয়ে অনুসন্ধানে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’ এর ফেসবুক পেজে গত ২৩ ফেব্রুয়ারিতে প্রচারিত একটি ভিডিও পোস্ট পাওয়া যায়। ভিডিওতে প্রদর্শিত দৃশ্যের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে প্রদর্শিত দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়।

দৃশ্যের বিষয়ে ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’ এর ফেসবুক পোস্টটিতে বলা হয়, ‘মেক্সিকোর একটি প্রধান রিসোর্ট শহর রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল এবং একটি বিমানবন্দরে হামলার খবর পাওয়া গেছে, কারণ রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সেনাবাহিনী কর্তৃক কুখ্যাত ‘হালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেল’ -এর নেতা নিহত হয়েছেন।’ (অনূদিত)

এছাড়াও, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে প্রদর্শিত অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্যের বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘916 Times’, ‘The State of America’সহ একাধিক ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে গত ২৩ ফেব্রুয়ারিতে আলোচিত দৃশ্য পাওয়া যায়। তাতেও দৃশ্যগুলো মেক্সিকান মাদক সম্রাট এল মেনচোর মৃত্যুর পর মেক্সিকোতে হওয়া সংঘাতের দৃশ্য বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মেক্সিকোর শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কুখ্যাত হালিস্কো নিউ জেনারেশন (সিজেএনজি) মাদক চক্রের নেতা ‘এল মেনচো’ যার আসল নাম নেমেসিও ওসেগুয়েরা সারভান্তেস গত ২২ ফেব্রুয়ারিতে এক নিরাপত্তা অভিযানে নিহত হয়েছেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারিতে তার সমর্থক ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে এল মেনচো গুরুতর আহত হন। পরে মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মেক্সিকোর নানা এলাকায় তাণ্ডব শুরু করেন মাদক চক্রটির সদস্যরা। তারা বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সড়কে অবরোধ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

অপরদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের শুরু হয়েছে।

সুতরাং, সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের ঘটনার দৃশ্য দাবিতে মেক্সিকোর ভিন্ন প্রেক্ষাপটের ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: