সম্প্রতি অনলাইনে দাবি প্রচার করা হয়েছে, বারবার কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ঢাকার বনশ্রী এলাকায় দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার (নীলি/লিলি)-কে গলা কেটে হত্যা করে রেস্তোরাঁ কর্মচারী হিন্দু মিলন মল্লিক।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার (লিলি/নীলি) হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত মিলন মল্লিক হিন্দু নন বরং তিনি মুসলিম। তার পুরো নাম মোহাম্মদ মিলন মল্লিক এবং তিনি মৃত সেকেন্দার মল্লিকের ছেলে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম ‘আরটিভি’র ওয়েবসাইটে গত ১৩ জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৩ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, হোটেল মালিকের মেয়ে ফাতেমা আক্তার লিলিকে নিয়ে পালাতে চেয়েছিলেন হোটেলের কর্মচারী মিলন মল্লিক। কিন্তু এতে রাজি না হওয়ায় স্কুল শিক্ষার্থী লিলিকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায় মিলন।
এরই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে ‘GS News BD’ নামের এক ফেসবুক পেজে র্যাব এর সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও পাওয়া যায়। তাতে র্যাব কর্মকর্তা অভিযুক্তের পুরো নাম হিসেবে উল্লেখ করেন, ‘মোহাম্মদ মিলন মল্লিক’।
অভিযুক্তের বাবার নামের বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম যুগান্তর ও বাংলাদেশ প্রতিদিন সূত্রে জানা যায়, ‘মিলন বাগেরহাটের মান্ডা বাঁশখালী এলাকার মৃত সেকেন্দারের মল্লিকের ছেলে’। অর্থাৎ, অভিযুক্তের নামে ‘মোহাম্মদ’ ও বাবার নাম ‘সেকেন্দার’ থেকে স্পষ্ট যে অভিযুক্ত মিলন মুসলিম ব্যক্তি।
উল্লেখ্য, ‘মল্লিক’ নাম মুসলিম ও হিন্দু উভয় ধর্মাবলম্বী মানুষের ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যায়।
সুতরাং, বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার (লিলি/নীলি) হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ইসলাম ধর্মাবলম্বী মোহাম্মদ মিলন মল্লিককে হিন্দু ধর্মাবলম্বী দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।


