হাদির ওপর হামলা ইস্যুতে জামায়াত-শিবিরকে জড়িয়ে মির্জা আব্বাসের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার

গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে তাকে গুলি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেদিন বিকেলে হাদিকে দেখতে ঢাকা মেডিকেলে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি-মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ওইদিনই মির্জা আব্বাসকে উদ্ধৃত করে ও তার ছবি যুক্ত করে ‘জামাত-শিবিরের প্রশিক্ষিত শুটার দিয়ে হাদির কান লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে এবং গুলি হাদির কানের কাছ দিয়েই গেছে। আমি হাসপাতালে গিয়ে তাকে দেখে এসেছি। তার অবস্থা তেমন গুরুতর নয় তবে কানের সামান্য অংশ কেটে গেছে। অথচ, বট বাহিনী নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে এটাকে ভিন্ন ভাবে প্রচার করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।’ শিরোনামে একাধিক ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)৷
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, শরিফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার বিষয়ে মির্জা আব্বাস এমন কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, কোনোপ্রকার তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই আলোচিত মন্তব্যটি মির্জা আব্বাসের নামে প্রচার করা হয়েছে৷
শরিফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার বিষয়ে মির্জা আব্বাসের মতো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এমন কোনো মন্তব্য করলে তা গণমাধ্যমে গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হওয়ার কথা। কিন্তু, গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো সংবাদ বা তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে চ্যানেল ওয়ানের ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৩ ডিসেম্বর ‘হাসপাতালে তোপের মুখে মির্জা আব্বাস, বিএনপির ছাড় না দেয়ার হুঁশিয়ারি’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়৷ উক্ত ভিডিওতে মির্জা আব্বাসকে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে দেখা যায়।
উক্ত ভিডিওটির ০২:০৪ সেকেন্ড থেকে ০২:৪৮ অংশে মির্জা আব্বাসকে বলতে শোনা যায়, বিষয়টা ভালোভাবে দেখার কোনো কারণ নাই। আমি আশা করবো, আধুনিক যুগ, বিভিন্ন জায়গায় ক্যামেরা লাগানো আছে, এটা নিশ্চয়ই সিসি ক্যামেরায় আসবে কারা কাজটা করেছে। আমার ধারণা বৃহৎ কোনো ষড়যন্ত্রের একটা অংশ, ছোট্ট অংশ। এটা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আসামিদেরকে বিচারের আওতায় আনা দরকার এবং বের করা দরকার কারা কী উদ্দেশ্যে এই গুলিটা করলো।
তার উক্ত বক্তব্যে তিনি শরিফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামী ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে প্রচারিত ফটোকার্ডের কথাগুলো বলেননি এবং হাদির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও তাকে আলোচিত মন্তব্যটি করতে দেখা যায়নি।
সুতরাং, গুলিবিদ্ধ শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা ও তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় জামায়াত-শিবিরকে জড়িয়ে মির্জা আব্বাসের নামে প্রচারিত মন্তব্যটি ভুয়া ও বানোয়াট।

