শুধুমাত্র খিলগাঁও তালতলা মার্কেট থেকে মির্জা আব্বাস প্রতিমাসে ৩২ কোটি টাকা চাঁদা তোলেন দাবিতে কালের কণ্ঠের নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে জড়িয়ে মূলধারার গণমাধ্যম কালের কণ্ঠের ফটোকার্ডের ডিজাইনের আদলে তৈরি একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। প্রচারিত ফটোকার্ডের শিরোনাম ‘শুধুমাত্র খিলগাঁও তালতলা মার্কেট থেকে মির্জা আব্বাস প্রতিমাসে ৩২ কোটি টাকা চাঁদা তোলে’।
প্রচারিত ফটোকার্ডে কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইট লিঙ্ক, কালের কণ্ঠের ফটোকার্ডে ব্যবহৃত স্লোগান ‘আংশিক নয় পুরো সত্য’ স্লোগানেরও সংযুক্তি রয়েছে৷ তবে কালের কণ্ঠের টেক্সট লোগোতে কালের কণ্ঠের লোগোর আদলে ‘কালের কণ্ঠ’ এর বদলে ‘বালের কণ্ঠ’ লেখা হয়েছে। তবে, একই ফটোকার্ডে কালের কণ্ঠের আসল ওয়েবসাইট লিঙ্ক (www.kalerkantho.com) ও আসল স্লোগান (আংশিক নয় পুরো সত্য) ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও, ফটোকার্ডটি কালের কণ্ঠের ডিজাইনের আদলে তৈরি।

আলোচিত ফটোকার্ড সম্বলিত ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া অবধি আলোচিত দাবিতে প্রচারিত উপরোল্লিখিত পোস্টটিতে এককভাবে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘শুধুমাত্র খিলগাঁও তালতলা মার্কেট থেকে মির্জা আব্বাস প্রতিমাসে ৩২ কোটি টাকা চাঁদা তোলে’ শীর্ষক শিরোনামে এমন কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ কালের কণ্ঠ প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় কালের কণ্ঠের ফটোকার্ড ডিজাইনের আদলে ফটোকার্ড তৈরি করে এই দাবি প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডে কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইট লিঙ্ক ও তারিখ হিসেবে ১২ জুলাই, ২০২৫ উল্লেখ থাকার সূত্রে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করলে উক্ত তারিখে উক্ত তথ্য সম্বলিত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যমটির ওয়েবসাইটেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ফটোকার্ডটি বিশ্লেষণে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজের ফটোকার্ডগুলোর সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির গ্রাফিক্যাল ডিজাইন, টেক্সটের ফন্ট, ফন্টের গাঢ়ত্ব, লাইন স্পেসে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।

আলোচিত দাবির সূত্রপাতের বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Zehadi Ehsan’ নামের এক ‘অ্যাক্টিভিস্ট’ এর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গত ১১ জুলাইয়ে আলোচিত দাবিটি সম্ভাব্য প্রথমবার প্রচার হতে দেখা যায়। তবে দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। তথ্যপ্রমাণের বিষয়ে ‘তাহমিনা ইসলাম মারিয়া’ নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারীর প্রশ্নের জবাবে পোস্টকারী ‘জেহাদী এহসান’ জানান, তিনি নিজে সরেজমিনে জেনে এসেছেন, তিনিই প্রমাণ।
তবে, এ বিষয়ে কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটে কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ড প্রচার করা হয়নি।
সুতরাং, “শুধুমাত্র খিলগাঁও তালতলা মার্কেট থেকে মির্জা আব্বাস প্রতিমাসে ৩২ কোটি টাকা চাঁদা তোলে” শীর্ষক দাবিতে কালের কণ্ঠের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া।
তথ্যসূত্র
- Rumor Scanner’s own analysis
- Kaler Kantho – Facebook Page

