চাঁদপুর ও কেরানীগঞ্জের পৃথক দুই ঘটনাকে একই দাবিতে প্রচার

গত ২৬ ডিসেম্বর রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় একটি মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে ককটেল, রাসায়নিক দ্রব্য এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

এরই প্রেক্ষিতে, ‘শুধু প্রথম আলো আর ডেইলি স্টারই না তাদের আরো অনেক দোসর আছে যারা প্রতিনিয়ত ইসলামবিদ্বেষী কাজ করে যাচ্ছে। সকালে যেটা ছিল গিজার বিস্ফোরণ বিকাল হতে না হতে হয়ে গেছে বোমা বিস্ফোরণ’ শীর্ষক ক্যাপশনে একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

মাছরাঙা টিভির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি পোস্টের স্ক্রিনশট এবং জাতীয় দৈনিক মানবকণ্ঠের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট যুক্ত করে দাবি করা হচ্ছে- স্ক্রিনশটের ঘটনা দুইটি একই।

ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন- এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, মাছরাঙা টিভির ফেসবুক পেজ ও মানবকণ্ঠের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত দুইটি প্রতিবেদন একই ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, দুইটি পৃথক ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট ব্যবহার করে ঘটনা দুইটিকে একই বলে দাবি করে প্রচার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে মাছরাঙা টিভির ফেসবুক পেজ থেকে প্রচারিত পোস্টের স্ক্রিনশটে দেখা যায়, সেটিতে লেখা রয়েছে, ‘গিজার বিস্ফোরণে পুরো ফ্ল্যাটের ভয়াবহ অবস্থা’ এবং মানবকণ্ঠের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশটে লেখা রয়েছে, ‘কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার’।

উক্ত সূত্র ধরে অনুসন্ধানে মাছরাঙা টিভির ফেসবুক পেজ থেকে গত ২৬ ডিসেম্বর রাত ১১ টা ১৯ মিনিটে প্রচারিত পোস্টটি খুঁজে পাওয়া যায়। তবে, ভিডিওর কোথাও ঘটনাস্থলের বিষয়ে উল্লেখ নেই।

পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের ওয়েবসাইটে গত ২৬ ডিসেম্বর ‘গিজার বিস্ফোরণে আহত ২’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর রাত ১১ টার দিকে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নে পানির গিজার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পরিবারের দুইজন আহত হয়েছিলেন।

একই ভিডিও ও তথ্য যুক্ত করে ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এনবিপি নিউজও

এরপর মানবকণ্ঠের প্রতিবেদনও খুঁজে বের করে রিউমর স্ক্যানার টিম। গত ২৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ০৬টা ২০ মিনিটে ‘কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, গত ২৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার একতলা ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে মাদ্রাসার একতলা ভবনের পশ্চিম পাশের দুটি কক্ষের দেয়াল উড়ে গেছে। ঘটনাস্থলে ককটেল, রাসায়নিক পদার্থ ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল কাজ করছে। এখনো অভিযান চলছে। ককটেল, দাহ্য পদার্থ ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

একই তথ্যে সংবাদ প্রকাশ করেছে- প্রথম আলো, বিডি নিউজ২৪, ডেইলি স্টার সহ প্রায় সকল গণমাধ্যম।

অর্থাৎ, গত ২৫ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নে একটি পানির গিজার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর প্রায় ১২ ঘণ্টা পর, ২৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

সুতরাং, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পানির গিজার বিস্ফোরণ এবং রাজধানীর কেরানীগঞ্জে একটি মাদ্রাসায় বোমা বিস্ফোরণের দুইটি পৃথক ঘটনাকে একই দাবি হিসেবে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: