সজীব ওয়াজেদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মানজুর আল মতিন নন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে মানজুর-আল-মতিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দাবিতে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম’ শিরোনামে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম একাত্তর টিভি গত ৭ জানুয়ারি তাদের ফেসবুক পেজে একটি ফটোকার্ড প্রচার করে। তবে পরবর্তীতে গণমাধ্যমটি ফটোকার্ডটি ডিলিট করে দেয়।

একাত্তর টিভির উক্ত ফটোকার্ডটি ব্যবহার করে ফেসবুকে প্রচারিত অন্যান্য পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

একই ফটোকার্ড থেকে একাত্তর টিভির লোগো মুছে দিয়ে ভিন্ন আরেকটি ফটোকার্ড তৈরি করেও ফেসবুকে একাধিক পোস্ট করা হয়। এমন কিছু ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, জুলাই গণহত্যার মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে মানজুর-আল-মতিনকে নিয়োগ দেওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হলেন মো. মনজুর আলম। মূলত, মো. মনজুর আলম এবং মানজুর-আল-মতিন দুজন ভিন্ন ব্যক্তি।

আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে জয়ের আইনজীবী প্রসঙ্গে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হলেন মো. মনজুর আলম; মানজুর-আল-মতিন নয়।

এছাড়াও ফটোকার্ডে ব্যবহৃত আলোচিত আইনজীবীর বিষয়ে অনুসন্ধানে ঢাকা আইনজীবী সমিতির ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করেও দেখা যায়, তার নাম মানজুর-আল-মতিন, মো. মনজুর আলম নয়।

পাশাপাশি অনুসন্ধানে সজীব ওয়াজেদ জয়ের আইনজীবী মো. মনজুর আলমের গণমাধ্যেমের সাথে কথার একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে আলোচিত আইনজীবী মানজুর-আল-মতিনের চেহারার সাথে জয়ের আইনজীবীর চেহারার পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।

অর্থাৎ, একাত্তর টিভির ফটোকার্ডে জয়ের আইনজীবী মো. মনজুর আলমের নাম লেখা হলেও ছবি হিসেবে জুলাই আন্দোলন চলাকালীন আলোচিত আইনজীবী মানজুর-আল-মতিনের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

সুতরাং, একাত্তর টিভির ফটোকার্ডে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের আইনজীবী মো. মনজুর আলমের ছবির পরিবর্তে আইনজীবী মানজুর-আল-মতিনের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: