পলাতক মহিলা লীগ নেত্রীর নামে দায়ের করা মামলায় শিশু সন্তানকে গ্রেফতারের দাবিটি সঠিক নয়

সম্প্রতি, কথিত আওয়ামী মহিলা লীগের নেত্রীর নামে দায়ের করা মামলায় সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া তার ছেলেকে পুলিশ আটক করেছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়। প্রচারিত পোস্টগুলোতে বলা হয়, কথিত ওই আওয়ামী লীগ নেত্রী পলাতক থাকায় তার ছেলেকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভিডিওটিতে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে এক শিশুর হাতে হাতকড়া পড়িয়ে আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
একই ভিডিওর স্ক্রিনশটও ফেসবুকে প্রচার করা হয়। প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ভিডিওটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পেজ থেকে শেয়ার করে পরবর্তীতে সরিয়েও নেওয়া হয়। তবে পেজটি থেকে Supporters of Bangladesh Awami League নামের একটি গ্রুপে একই ভিডিও শেয়ার করা হয়। শেয়ার করা পোস্টটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
টিকটকে প্রচারিত একই ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
এক্সে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, কথিত আওয়ামী মহিলা লীগ নেত্রীর নামে দায়ের করা মামলায় তিনি পলাতক থাকায় তার শিশু ছেলেকে আটকের দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, চুরির অভিযোগে আলোচিত ওই শিশুর মা তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় ভিডিওটি ধারণ করা হয়। যেটিকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
আলোচিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে এটির কয়েকটি কী-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে অনলাইন গণমাধ্যম বার্তা২৪-এর ইউটিউব চ্যানেলেও একই ভিডিওটির একটি সম্প্রসারিত সংস্করণ প্রচারিত হতে দেখা যায়। তবে ভিডিওতে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শুধু ভিডিওটির শিরোনামে উল্লেখ করা হয়, ‘মায়ের মামলায় ছেলে কারাগারে’। কিন্তু ভিডিওটি পর্যালোচনায় একজনকে ‘মা মামলা করেছে’ শীর্ষক মন্তব্য করতে শোনা যায়।

পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে একুশে টেলিভিশনের প্রতিবেদক Ariful Islam-এর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গত ১৫ ডিসেম্বর একই ভিডিওটি প্রচারিত হতে দেখা যায়।

ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে আরিফুল ইসলামেরই করা একটি মন্তব্য থেকে ভিডিওটির বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়, তিনি জানান ‘মায়ের মামলায় ছেলে কারাগারে’ এই শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি প্রচারের কারণে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। মূলত, আটক শিশুর মা তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় তাকে আটক করা হয়।

আরিফুল ইসলামের করা মন্তব্য থেকে জানা যায়, আটক শিশুর নাম মো. বিজয়। তার মায়ের নাম জাহানারা বেগম। আসামি বিজয় তার মায়ের কাছে নেশা করার জন্যে টাকা চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তাই পরবর্তীতে বিজয় শোকেসের ড্রয়ার ভেঙে নগদ ২৫ হাজার টাকা চুরি করেন। এ ঘটনায় বিজয়ের মা তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন ভিডিওটি আরিফুল ইসলাম নিজেই ধারণ করেন। এ সময় শিশুর বয়স নিয়ে তার সংশয় তৈরি হলে তিনি জিজ্ঞেস করলে আটক শিশু জানান তার বয়স ১৮ বছর। এছাড়া মামলাতেও তার বয়স ১৮ উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা যায়।
পাশাপাশি এ ঘটনায় ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম চ্যানেল আই এর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্যগুলো জানা যায়। অর্থাৎ, উক্ত ছেলেকে তার মায়ের নামে দায়ের করা কোনো মামলার কারণে গ্রেফতার করা হয়নি। এছাড়াও তার মায়ের আওয়ামী মহিলা লীগের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতা কিংবা তার পলাতক থাকার দাবিটিও ভিত্তিহীন।
সুতরাং, আওয়ামী মহিলা লীগের নেত্রীর নামে দায়ের করা মামলায় তার সপ্তম শ্রেণীর শিশু ছেলেকে গ্রেফতারের দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
- Barta24 Youtube Channel: মায়ের মামলায় ছেলে কারাগারে
- Ariful Islam Facebook Post
- Channel i Facebook Post
- Rumor Scanner’s Analysis

