কন্যাদের ধর্ষণ করায় বাবার গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার দাবিটি মিথ্যা

বাংলাদেশে এক ব্যক্তি নিজের তিন কন্যাকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন করতেন এবং সম্প্রতি সর্বকনিষ্ঠ কন্যাকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে বড় তিন বোন মিলে তাঁর গোপনাঙ্গ কেটে দেন এমন দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ছড়িয়ে পড়তে দেখে রিউমর স্ক্যানার।

এক্সে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

একই ভিডিওটি ভারতের কেরালা রাজ্যের ঘটনা দাবিতেও প্রচারিত হতে দেখা যায়। এমন দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত দাবিগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে, ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিবাহের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ স্ত্রীর কেটে দেওয়ার ঘটনায় প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে Barta Verse TV নামের একটি সংবাদভিত্তিক ফেসবুক পেজে গত ৩০ জুন একই ভিডিওটি প্রচারিত হতে দেখা যায়। ভিডিওটির শিরোনামে উল্লেখ করা হয়, এটি বাংলাদেশের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ স্ত্রীর কেটে দেওয়ার ঘটনার ভিডিও।

প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকের ওয়েবসাইটে গত ২৯ জুন প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি একই দিন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদী গ্রামে ঘটে।

প্রতিবেদনে অভিযুক্ত স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুমির বরাতে বলা হয়, ভুক্তভোগী ব্যক্তি তিনটি বিয়ে করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, স্বামীর নির্যাতনের কারণে আগের এক স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। এছাড়া, স্বামীর একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও তিনি আপত্তি জানালে নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হন বলে দাবি করেন। একপর্যায়ে, স্বামী ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তিনি ব্লেড দিয়ে তাঁর গোপনাঙ্গ কেটে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ, উক্ত ঘটনার সাথে আলোচিত দাবিগুলোর কোনো সম্পৃক্তাই নেই।

সুতরাং, ফরিদপুরে স্বামীর গোপনাঙ্গ স্ত্রীর কেটে দেওয়ার ঘটনায় প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজকে নিজ কন্যাদের ধর্ষণ করায় কন্যারা মিলে বাবার গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: