মব নিয়ন্ত্রণ ইস্যু ও জামায়াত-শিবিরকে জড়িয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির হামলাকারীদের গ্রেপ্তারসহ ৩ দফা দাবিতে গত ১৫ ডিসেম্বর ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। দাবি না মানা হলে এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন না দেখাতে পারলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে-এমন দাবি জানিয়েছেন ডাকসু ভিপি। সেদিন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক শেষে উপদেষ্টার পাশে দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেও বিপদ, তারা আমার রুমে ঢুইকা আমার পদত্যাগ চায়। তাও বলি যে দেশে জামাত শিবির আছে সে দেশে মব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না: জাহাঙ্গীর আলম’ ক্যাপশনে ‘যে দেশে জামাত শিবির আছে সে দেশে মব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না’ শিরোনামে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর ছবিযুক্ত একটি ফটোকার্ড ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)৷
উক্ত দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, মব নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এমন কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, একটি স্যাটায়ার পেজের ব্যাঙ্গাত্মক পোস্ট থেকে সূত্রপাত হওয়া মন্তব্যকে আসল মন্তব্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণ করে দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রেও আলোচিত দাবিতে কোনো সংবাদ বা তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রচারিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে ‘GojobVision’ নামক একটি লোগো খুঁজে পাওয়া যায়। এই সূত্র ধরে ‘GojobVision’ নামক ফেসবুক পেজে গত ২০ ডিসেম্বর প্রকাশিত এ সংক্রান্ত মূল ফটোকার্ডটি খুঁজে পাওয়া যায়।

‘GojobVision’ পেজটির পরিচিতি অংশ থেকে জানা যায়, এই পেজটি বিনোদনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয় এবং এতে সমসাময়িক খবর ব্যঙ্গ-সার্কাজমের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়।
এছাড়া, আলোচিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে একাধিক গণমাধ্যম (১, ২) সূত্রে জানা যায়, এটি গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সাভারের রাজালাখ এলাকায় হর্টিকালচার সেন্টারে কৃষকের মিনি কোল্ডস্টোরেজ কার্যক্রম ও ‘খামারি’ অ্যাপসের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময়ে ধারণকৃত একটি দৃশ্য। উক্ত বক্তব্যে কৃষি জমি সুরক্ষার বিষয়ের পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ‘কোনও ধরনের ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে, তবে জনসচেতনতা আরও বাড়াতে হবে। জনগণকে বলবো, আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। আর পুলিশকে বলবো, আরও সক্রিয় হওয়ার জন্য। কিছুদিনের মধ্যেই পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জনবল বাড়ানো হবে। পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। আমি অস্বীকার করবো না যে, ঘটনাগুলো ঘটছে না। কিন্তু ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আমরা লোকজনকে আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। যারা এসব অপরাধ করছে, এরা আমাদেরই পোলাপান, ওদের একটু বোঝাতে হবে, যেন অপকর্ম থেকে সরে আসে। আরেকটা বিষয়- আমাদের যে স্ট্যাটিসটিকস আছে, এর আগেও কিন্তু এরকম ঘটনা ঘটেছে।’ উক্ত বক্তব্যে তার ‘তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেও বিপদ, তারা আমার রুমে ঢুইকা আমার পদত্যাগ চায়। তাও বলি যে দেশে জামাত শিবির আছে সে দেশে মব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না’ সূচক মন্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, আলোচিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির ঘটনার আলোচিত মন্তব্যটির কোনো সম্পর্ক নেই।
সুতরাং, উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ‘যে দেশে জামাত শিবির আছে সে দেশে মব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না’ শীর্ষক মন্তব্য করেছেন বলে প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- GojobVision – Facebook Post
- বাংলা ট্রিবিউন – অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে, কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না
- Protidiner Bangladesh – আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

