ওসমান হাদি ও ঢাবি শিক্ষিকা মোনামীর একসঙ্গে তোলা এই ছবিটি সম্পাদিত 

সম্প্রতি ‘হাদি মোনামি ম্যামকে জনি ভাইকে অনুসরণ করা কথা বলে গিয়েছিলো।…’ ক্যাপশনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র প্রয়াত শরিফ ওসমান হাদির ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়ার (মোনামী) একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। 

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)৷

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, শরীফ ওসমান হাদি ও শেহরীন আমিন ভূঁইয়ার প্রচারিত ছবিটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, তাদের ভিন্ন একটি ছবি সংগ্রহ করে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনা করে আলোচিত ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে শেহরীন আমিন ভূঁইয়ার ফেসবুক প্রোফাইলে ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর প্রকাশিত পোস্টে তার ও ওসমান হাদির একটি ছবি খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ছবির সাথে আলোচিত ছবিটির আংশিক সাদৃশ্য রয়েছে।

উক্ত ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, মূল ছবিটি থেকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের অংশটি কর্তন করা হয়েছে৷ এটির সাথে আলোচিত ছবিতে ওসমান হাদি ও শেহরীন আমিন ভূঁইয়ার মুখমণ্ডল, পোশাক, অঙ্গভঙ্গি ও পারিপার্শ্বিক সবকিছুর মিল থাকলেও তাদের দুজনের হাতে ধরা বইটির প্রচ্ছদের পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।

এ বিষয়ে অধিকতর অনুসন্ধানে জানা যায়, মূল ছবিতে তাদের হাতে ইনকিলাব মঞ্চ প্রকাশিত ‘জুলাইয়ের গ্রাফিতি এবং গাইলসমগ্র’ বইটি ছিল। মূল ছবির বইটির প্রচ্ছদের ওপরে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় নীল পোশাক পরিহিত একজন ব্যক্তির ছবি প্রতিস্থাপন করে আলোচিত ছবিটি তৈরি করা হয়। অপটু সম্পাদনার কারণে প্রতিস্থাপিত বিষয়ের পেছনে মূল প্রচ্ছদের কিছু অংশ দৃশ্যমান রয়েছে, যা মূল ছবিতে সম্পাদনার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

পরবর্তীতে, ওসমান হাদির প্রশংসা করে ও তাদের ছবি সংযুক্ত শেহরীন আমিন ভূঁইয়ার উল্লিখিত ফেসবুক পোস্টটির বিষয়ে একাধিক গণমাধ্যমে (, ) প্রকাশিত প্রতিবেদনেও ‘জুলাইয়ের গ্রাফিতি এবং গাইলসমগ্র’ শিরোনামের বই হাতে তাদের ছবি খুঁজে পাওয়া যায়।

সুতরাং, প্র‍য়াত শরীফ ওসমান হাদি ও শেহরীন আমিন ভূঁইয়ার ছবি দাবিতে প্রচারিত ছবিটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: