গত ৬ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের অধীনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে আন্দোলনরতদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় ‘হাদির লাশ নিয়া যা’ বলে সমালোচনায় আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক সদস্য। ওই পুলিশ সদস্যের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়ার (মোনামী) দাবিতে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ছবিতে ঢাবি শিক্ষক মোনামীর সঙ্গে থাকা যুবকটি আলোচিত পুলিশ সদস্য নন। প্রকৃতপক্ষে, ওই পুলিশ সদস্যের নাম রাশেদ কাজী। আর ছবিতে থাকা ব্যক্তির নাম সৈয়দ সাজনুল হায়দার সায়েফ। তারা দুইজন ভিন্ন ব্যক্তি।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Sajnul Sayef’ নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল পাওয়া যায়। প্রোফাইলটি থেকে গত ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি পোস্টে শিক্ষক মোনামীর সঙ্গে থাকা আলোচিত ছবিটি পাওয়া যায়। ওই পোস্টে একই ব্যক্তির আরও কয়েকটি ছবিও সংযুক্ত রয়েছে। ক্যাপশন অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে ছবিগুলো তোলা হয়েছিল।

পরবর্তীতে ওই ফেসবুক প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করে একই ব্যক্তির আরও একাধিক ছবি পাওয়া যায়। পাশাপাশি, প্রোফাইলে সংযুক্ত একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) কপিতে নামের স্থানে ‘সৈয়দ সাজনুল হায়দার সায়েফ’ উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, আলোচিত পুলিশ সদস্যের নাম রাশেদ কাজী। তার নামে থাকা একটি ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবির সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিতে থাকা ব্যক্তির চেহারা তুলনা করলে, অমিল দেখা যায়। তবে, এই প্রতিবেদন লেখার সময় রাশেদ কাজীর ফেসবুক প্রোফাইলটি নিষ্ক্রিয় ছিল।
সুতরাং, ভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ঢাবি শিক্ষক মোনামীর ছবিকে আলোচিত পুলিশ সদস্য রাশেদ কাজীর বলে দাবি করা হয়েছে, যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- The Daily Campus: ডিএমপিতে যোগ দিয়েও ছাত্রদলের পক্ষে সক্রিয় ‘হাদির লাশ নিয়া যা’ বলা পুলিশ সদস্য
- Sajnul Sayef: Facebook Post


