আনভীর গ্রেফতার, কালের কণ্ঠ বন্ধ ও ক্ষমা চাওয়ার ফটোকার্ডগুলো ভুয়া 

সম্প্রতি, বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন গণমাধ্যমগুলো কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহকে নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশ করেছে। বিপরীতে এনসিপির নেতাকর্মীরা বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর এবং বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন গণমাধ্যম কালের কণ্ঠকে নিয়ে একাধিক নেগেটিভ প্রচারণা চালাতে শুরু করেছে৷

এরই প্রেক্ষিতে, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর গ্রেফতার হয়েছেন’, ‘জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ বন্ধের পথে’ এবং ‘হাসনাত আব্দুল্লাহকে নিয়ে প্রোপাগাণ্ডার ছড়ানোর দায় স্বীকার’ করে ক্ষমা চাওয়ার তথ্যে বা শিরোনামে কালের কণ্ঠের ডিজাইন সংবলিত অন্তত তিনটি ফটোকার্ড রিউমর স্ক্যানারের নজরে এসেছে।

“হাসনাত আবদুল্লাহর কথার ঠেলায় কালের কন্ঠ বন্ধের পথে, গ্রেফতার আনভীর” তথ্যে বা শিরোনামে কালের কণ্ঠের ডিজাইন সংবলিত ফটোকার্ড দেখুন– এখানে (আর্কাইভ)।

“মুনিয়া হত্যা মামলায় বসুন্ধরার মালিক ধর্ষক আনভীর গ্রেফতার। ‘অশুদ্ধতার বিরুদ্ধে এক বিন্দুও ছাড় নয়’ বললেন হাসনাত আব্দুল্লাহ” তথ্যে বা শিরোনামে কালের কণ্ঠের ডিজাইন সংবলিত ফটোকার্ড দেখুন– এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

“আমরা হাসনাত আবদুল্লাহর নামে প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানোর দায়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি” তথ্যে বা শিরোনামে কালের কণ্ঠের ডিজাইন সংবলিত ফটোকার্ড দেখুন– এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সায়েম সোবহান আনভীর গ্রেফতার, কালের কণ্ঠের কর্তৃপক্ষের ক্ষমা চাওয়া এবং কালের কণ্ঠ বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্যে বা শিরোনামে প্রচারিত কালের কণ্ঠের ডিজাইন সংবলিত ফটোকার্ডগুলো কালের কণ্ঠ প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় কালের কণ্ঠের ডিজাইন নকল করে আলোচিত ফটোকার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছে।

শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডগুলোতে কালের কণ্ঠের লোগো রয়েছে এবং উক্ত ফটোকার্ডগুলো প্রকাশের তারিখ হিসেবে ‘২৯ জুন, ২০২৬’ উল্লেখ রয়েছে।

উক্ত সূত্র ধরে অনুসন্ধানে কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেজে গত ২৯ জুন এমন কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলেও এসংক্রান্ত কোনো তথ্য বা সংবাদ পাওয়া যায়নি।

তবে, গত ২৯ জুন কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেজে “হাসনাতের দাপটে আক্রান্ত এক দিনমজুর পরিবার” শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ফটোকার্ডে থাকা হাসনাত আব্দুল্লাহর ছবি, শ্যাডো সহ আনুষাঙ্গিক উপাদানের সাথে প্রচারিত তিনটি ফটোকার্ডের মধ্যে দুইটির মিল রয়েছে।

এছাড়া, বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর গ্রেফতার হলে তা সব গণমাধ্যমে সংবাদ হতো। কিন্তু, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে কালের কণ্ঠ এবং অন্যান্য কোনো গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া।

পাশাপাশি, অন্যান্য দাবিগুলোর সপক্ষেও কোনো তথ্য অন্য কোনো গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন গণমাধ্যম কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিন নাম, লোগো, ডিজাইন অনুকরণ করে ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি ও প্রচারের ঘটনায় ভাটারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে প্রতিষ্ঠান দুইটি।

সুতরাং, আনভীর গ্রেফতার, কালের কণ্ঠের কর্তৃপক্ষের ক্ষমা চাওয়া এবং কালের কণ্ঠ বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্যে বা শিরোনামে প্রচারিত কালের কণ্ঠের ডিজাইন সংবলিত ফটোকার্ডগুলো ভুয়া।

তথ্যসূত্র

Share: