গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকৃত শিশুদের ছবি দাবিতে বলিভিয়ার জাদুঘরে থাকা মমির ছবি প্রচার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুইটি ছবি প্রচার করা হয়েছে যার একটিতে দেখা যায় দুইজন শিশু দাঁড়িয়ে আছে যার একজনের হাতে একটি বোতল রয়েছে৷ অপর ছবিতে দুই শিশুর মৃত অবস্থার দৃশ্য দেখা যায়। ছবিগুলো প্রচার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘অতঃপর দুই মাস পরে তাদের বাড়ির ধ্বং/স/স্তূ/পের নিচে তাদের পাওয়া গিয়েছিল। ফি’লি’স্তিন গা’জা’। অর্থাৎ, দাবি করা হয়েছে, প্রচারিত মৃত শিশুদের ছবি প্রকৃতপক্ষে ছবিতে থাকা জীবিত শিশুদেরই মৃত অবস্থার ছবি যাদেরকে গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কিছু পোস্টে সুনির্দিষ্টভাবে গাজার উল্লেখ না করে ক্যাপশনে শুধু ‘অতঃপর দুই মাস পরে তাদের বাড়ির ধ্বং/স/স্তূ/পের নিচে তাদের পাওয়া গিয়েছিল’ লেখা হয়েছে।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত মৃত শিশুদের ছবিটি গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা শিশুদের ছবি নয় বরং, বলিভিয়ার একটি জাদুঘরে রাখা দুটি শিশুর মমির ছবি।
আলোচিত ছবির বিষয়ে অনুসন্ধানে ছবি ও ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট ‘flickr’ এ ২০০৬ সালের ২৫ ডিসেম্বরে সম্ভাব্য মূল ছবিটি ‘Tanya Knight’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট হতে দেখা যায়। ছবি সম্পর্কে পোস্টে লেখা হয়, ‘মমিকৃত শিশু। জাদুঘরে কী দেখা যাবে তা সবসময়ই এক চমক। বলিভিয়ার পোটোসি শহরের মিন্ট মিউজিয়ামে আমি ১৮০০ সালের দিকের মমিকৃত দুটি স্প্যানিশ শিশুর মৃতদেহ খুঁজে পেয়েছি। সত্যিই বিভীষিকাময় বিষয়।’ (অনূদিত)

এরই সূত্র ধরে উক্ত জাদুঘরটি গুগল ম্যাপে অনুসন্ধান করলে তাতে আলোচিত শিশুদের ছবি ‘এস্তেফানিয়া উইল্ক’ নামের একজনকে ২০২২ সালে পোস্ট করতে দেখা যায়।
অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এর আরবি সংস্করণের ওয়েবসাইটে আলোচিত ছবির বিষয়ে ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি বলিভিয়ার একটি জাদুঘরে রাখা দুটি শিশুর মমির ছবি। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ছবিটির ফটোগ্রাফার তানিয়া নাইট ফ্লিকারে (Flickr) একটি বার্তার মাধ্যমে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধের জবাবে বলেছেন, ‘আমি নিজেই এই ছবিটি তুলেছি এবং (গাজা)-র ঘটনার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। যদিও আমি ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানাই, তবে তাদের বার্তা দেওয়ার জন্য এই ছবিটি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। এই ছবিটি ২০০৬ সালের শুরুর দিকে বলিভিয়ার লা কাসা ন্যাসিওনাল ডি মোনেদা জাদুঘরে দুটি মমিকৃত স্প্যানিশ শিশুর মৃতদেহ থেকে তোলা হয়েছিল।’ (অনূদিত)
এছাড়াও, রয়টার্সের প্রতিবেদনে আলোচিত ছবির বিষয়ে বলিভিয়ার জাদুঘরটির কর্তৃপক্ষের মন্তব্যের সংযুক্তিও পাওয়া যায়। মৃত শিশুদের ছবির বিষয়ে রয়টার্সকে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানায়. “আমরা নিশ্চিত করছি যে এই ছবিটি দুটি মমি প্রদর্শন করে এবং এটি কাসা ন্যাসিওনাল ডি মোনেদা জাদুঘরের সংগ্রহের অংশ। এই মমিগুলো আনুমানিক ১৭ ও ১৮ শতকের মধ্যবর্তী ঔপনিবেশিক আমলের। আন্দিজ অঞ্চলের জলবায়ু এবং পরিবেশগত পরিস্থিতির কারণে একটি প্রাকৃতিক মমিকরণ প্রক্রিয়ার ফলে এই দুটি শিশু সংরক্ষিত হয়েছে।” (অনূদিত)
সুতরাং, বলিভিয়ার একটি জাদুঘরে রাখা দুটি শিশুর মমির ছবিকে গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা শিশুদের ছবি দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Tanya Knight – Flickr Post
- Google Maps – 19° 35′ 19.9853″ S 65° 45′ 15.0491″ W
- Reuters – صورة تعرض مومياوين بمتحف في بوليفيا وليس طفلين تحت الأنقاض في غزة

